পাবনার ঈশ্বরদীর ২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) কার্যক্রমের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতা এবং শিক্ষার্থীদের শিখন কার্যক্রমে অবহেলার অভিযোগে তাদের এ শোকজ করা হয়।
Advertisement
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. শাহীনা আক্তার স্বাক্ষরিত নোটিশ গত ২৬ জুলাই সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়। আগামী ২ আগস্টের মধ্যে শিক্ষকদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় শ্রেণির বাংলা পাঠ, চতুর্থ শ্রেণির গণিতের মৌলিক চারটি প্রক্রিয়া এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি পাঠদক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তবে উপজেলার ১০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৩টি বিদ্যালয় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হলো- ফতেমোহাম্মদপুর, ইস্তা, মশুরিয়াপাড়া গোলাম হোসেন, মধ্য অরণকোলা, নিকরহাটা, দাশুড়িয়া, সরাইকান্দি, জোবেদা খাতুন সাবান আলী, আথাইল শিমুল, আটঘরিয়া, চরসাহাপুর, তিলকপুর, চরকুড়ুলিয়া, বাঁশেরবাদা, সুতানদ, ছলিমপুর, চরছলিমপুর, কদিমপাড়া, ৬৩ নম্বর নতুন রূপপুর, ৭৬ নম্বর জগন্নাথপুর, ৭৪ নম্বর জয়নগর ও ৯৪ নম্বর চররূপপুর নওদাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
Advertisement
নোটিশে বলা হয়েছে, ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্য পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর এফএলএন অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞানের হার ৫০ শতাংশের নিচে থাকায় শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের শিখন-অর্জন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ও নিয়মিত তদারকিও করা হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. শাহীনা আক্তার বলেন, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় ২৩টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শোকজ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়ার পর তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হবে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে জেলা কর্তৃপক্ষ।
শেখ মহসীন/কেএইচকে
Advertisement