প্রবাস

অ্যারোফমের বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াল মালয়েশিয়া হাইকমিশন

মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যের পোর্ট ক্লাং এলাকায় অবস্থিত অ্যারোফম ম্যানুফ্যাক্চারিং এসডিএন বিএইচডিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বেতন বকেয়া, ভিসা নবায়ন, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখা এবং মানবিক সংকটের অভিযোগের পর তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

Advertisement

অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই কোম্পানি কর্তৃপক্ষ, মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগ এবং মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে কাজ করছে হাইকমিশন।

বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন কোম্পানিটিতে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা ই-মেইলের মাধ্যমে হাইকমিশনে একাধিক অভিযোগ জানান।

আরও পড়ুন প্রবাসীদের ৯ কাজ বর্জন, ৫ কাজে মনোযোগী হওয়ার নির্দেশ

অভিযোগে বলা হয়, প্রায় ১১০ জন কর্মী টানা তিন মাস ধরে বেতন পাননি। এছাড়া ২৭ জন কর্মীর ভিসা নবায়ন করা হয়নি, অনেকের পাসপোর্ট কোম্পানি আটকে রেখেছে এবং শ্রমিকদের আবাসস্থলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

Advertisement

অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টির দ্রুত সমাধানে কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ জুন হাইকমিশনে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কোম্পানির একজন পরিচালকসহ তিনজন প্রতিনিধি, শ্রমিকদের পক্ষে পাঁচজন প্রতিনিধি এবং হাইকমিশনের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে কোম্পানির প্রতিনিধিরা ৩০ জুনের মধ্যে শ্রমিকদের সব সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ১১ জুন পাঠানো এক লিখিত প্রতিশ্রুতিপত্রে কোম্পানি জানায়, বকেয়া বেতন পরিশোধে তিন থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

এদিকে বেতন না পাওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে খাদ্যসংকট দেখা দিলে বাংলাদেশ হাইকমিশন মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসে। গত ২০ জুন হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল শ্রমিকদের আবাসস্থলে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধ সম্ভব না হলে শ্রমিকদের খাবার ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণে জনপ্রতি এক হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত করে দেওয়ার জন্য কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়।

তবে কোম্পানি তাদের লিখিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করায় বাংলাদেশ হাইকমিশন বিষয়টি মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগ (লেবার ডিপার্টমেন্ট) এবং মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নজরে আনে। দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়। পরে ২২ জুলাই কোম্পানিকে পুনরায় ই-মেইলের মাধ্যমে শ্রমিকদের সব বকেয়া বেতন পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়।

Advertisement

এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল পোর্ট ক্লাংয়ের পেজাবাত তেনাগা কেরজা (শ্রম বিভাগ) কার্যালয়ে গিয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে শ্রমিকদের দায়ের করা মামলার অগ্রগতি, অন্য প্রতিষ্ঠানে তাদের স্থানান্তরের সম্ভাবনা এবং সামগ্রিক সমস্যা সমাধানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

শ্রম বিভাগ হাইকমিশনকে জানায়, শ্রমিকদের সমস্যার সমাধানের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে এগিয়ে চলেছে। পাশাপাশি কোম্পানি কর্তৃপক্ষও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে শ্রমিকদের মানবিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ হাইকমিশন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ গত ২৯ জুলাই হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল আবারও পোর্ট ক্লাংয়ে গিয়ে শ্রমিকদের জন্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে।

বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে তারা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে। শ্রমিকদের বকেয়া বেতন আদায়, বৈধ কাগজপত্রের সমস্যা সমাধান এবং প্রয়োজন হলে অন্য প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হাইকমিশনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এমআরএম