মতামত

রাজনৈতিক দল সংস্কার না হলে গণতন্ত্রের সংস্কার অসম্পূর্ণ

রাজনীতিতে একটি অদ্ভুত প্রবণতা আছে। ক্ষমতায় থাকা দল সংস্কারের প্রয়োজন অস্বীকার করে, আর বিরোধী দল সংস্কারের দাবি তোলে। কিন্তু ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেই দৃশ্যপট বদলে যায়—যে দল গতকাল সংস্কারের কথা বলেছিল, আজ সে-ই ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণকে স্বাভাবিক বলে ব্যাখ্যা করতে শুরু করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই চক্র নতুন নয়। ক্ষমতার চরিত্র বদলায়, মুখ বদলায়, স্লোগান বদলায়; কিন্তু দলীয় কাঠামোর ভেতরের অগণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রায় একই থেকে যায়।

Advertisement

এ কারণেই রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার এখন কোনো বিলাসী আলোচনা নয়; এটি গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার মৌলিক শর্ত। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে যতই সংস্কার করা হোক, রাজনৈতিক দলগুলো যদি পুরোনো সংস্কৃতিতে আটকে থাকে, তাহলে সেই সংস্কার শেষ পর্যন্ত কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কারণ গণতন্ত্রের প্রাণ সংসদে নয়, রাজনৈতিক দলের ভেতরেই প্রথম স্পন্দিত হয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের একটি বড় কারণ হলো দল আছে, কিন্তু দলীয় গণতন্ত্র দুর্বল। নেতৃত্ব আছে, কিন্তু নেতৃত্বের জবাবদিহি সীমিত। সম্মেলন হয়, কমিটি হয়, পদ-পদবি বণ্টন হয়; কিন্তু সাধারণ কর্মী ও তৃণমূলের মতামত কতটা প্রতিফলিত হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। অনেক রাজনৈতিক দল কার্যত একজন নেতা বা একটি পরিবারের চারপাশে আবর্তিত হয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা যত বেশি কেন্দ্রীভূত হয়, দলের অভ্যন্তরে মতপ্রকাশের জায়গা তত সংকুচিত হয়।

এমন কাঠামো থেকে জাতীয় গণতন্ত্রের সুস্থ চর্চা আশা করা কঠিন। যে দলে ভিন্নমতকে বিদ্রোহ হিসেবে দেখা হয়, সেখানে ক্ষমতায় গিয়ে বিরোধী মতকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে গ্রহণ করা কতটা সম্ভব?

Advertisement

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এই প্রশ্নকে আরও জরুরি করে তুলেছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন দল, নতুন নেতৃত্ব ও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশে ৬০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। কিন্তু নিবন্ধিত দলের সংখ্যা গণতন্ত্রের গভীরতার প্রমাণ নয়। গণতন্ত্রের মান নির্ভর করে দলগুলো কতটা গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক—তার ওপর।

একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে যদি নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রকৃত প্রতিযোগিতা না থাকে, আর্থিক হিসাব প্রকাশের সংস্কৃতি না থাকে, প্রার্থী মনোনয়নে স্বচ্ছতা না থাকে এবং নেতার সিদ্ধান্তই যদি দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে ওঠে, তাহলে সেই দল রাষ্ট্র পরিচালনায় গিয়ে কী ধরনের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে—এ প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

রাজনৈতিক দলের সংস্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো নেতৃত্ব নির্বাচন। বিশ্বের বহু গণতান্ত্রিক দেশে দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে সদস্যদের সরাসরি ভোট, প্রতিনিধিদের ভোট বা নির্দিষ্ট সাংগঠনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। কোথাও প্রাইমারি নির্বাচন, কোথাও অভ্যন্তরীণ কাউন্সিল, কোথাও সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়। পদ্ধতি দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু মূল নীতি এক—দলের নেতৃত্ব জনগণের কাছে গণতন্ত্রের পাঠ দেওয়ার আগে নিজেদের ভেতরেই গণতন্ত্রের চর্চা করবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের একটি বড় কারণ হলো দল আছে, কিন্তু দলীয় গণতন্ত্র দুর্বল। নেতৃত্ব আছে, কিন্তু নেতৃত্বের জবাবদিহি সীমিত। সম্মেলন হয়, কমিটি হয়, পদ-পদবি বণ্টন হয়; কিন্তু সাধারণ কর্মী ও তৃণমূলের মতামত কতটা প্রতিফলিত হয়, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে। অনেক রাজনৈতিক দল কার্যত একজন নেতা বা একটি পরিবারের চারপাশে আবর্তিত হয়।

Advertisement

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের সম্মেলন অনেক সময় আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। নেতৃত্বের পরিবর্তন যেন প্রায় অসম্ভব, আর পরিবর্তন হলেও তা হয় ওপরের সিদ্ধান্তে। তৃণমূলের কর্মীরা ভোটার নন, তাঁরা যেন কেবল সমর্থক। অথচ যে কর্মীরা মাঠে দলকে টিকিয়ে রাখেন, তাঁদের রাজনৈতিক মতামত ও সাংগঠনিক অধিকার উপেক্ষা করে কোনো দল দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে পারে না।

প্রার্থী মনোনয়নও রাজনৈতিক সংস্কারের একটি বড় পরীক্ষা। নির্বাচনের সময় আমরা প্রায়ই দেখি, জনগণের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের চেয়ে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সমর্থন কিংবা ব্যক্তিগত আনুগত্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে সংসদে জনগণের প্রতিনিধি কম, আর ক্ষমতার প্রতিনিধির সংখ্যা বেশি হয়ে যায়।

প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের নিজস্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থাকা দরকার। স্থানীয় পর্যায়ে সদস্য ও সমর্থকদের মতামত, প্রার্থীর জনসম্পৃক্ততা, সততা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস, সম্পদের উৎস এবং জনসেবার অভিজ্ঞতা—সবকিছু বিবেচনায় আসা উচিত। প্রার্থী মনোনয়নকে যদি কেবল রাজনৈতিক বিনিয়োগের বাজারে পরিণত করা হয়, তাহলে সংসদও ধীরে ধীরে জনগণের প্রতিনিধিত্বের বদলে ক্ষমতা ও সম্পদের প্রতিযোগিতার মঞ্চে পরিণত হবে।

অর্থের প্রশ্নটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দল কীভাবে অর্থ সংগ্রহ করে, কার কাছ থেকে অর্থ নেয়, সেই অর্থ কীভাবে ব্যয় করে—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা না থাকলে রাজনীতি অদৃশ্য অর্থের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। নির্বাচনি ব্যয় সীমা নির্ধারণ করলেই হবে না; সেই সীমা বাস্তবে মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। দলীয় তহবিলের নিরীক্ষিত হিসাব প্রকাশ, বড় অনুদানের উৎস জানানো এবং রাজনৈতিক অর্থায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও কমিশনের ওপর সব দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে চলবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদেরও স্বচ্ছতার সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে। নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ভোটারদেরও দলীয় অর্থায়ন ও রাজনৈতিক ব্যয়ের ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দলীয় জবাবদিহি। কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনি ইশতেহারে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেয়। নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে। কিন্তু পাঁচ বছর পর ভোটার যখন হিসাব চাইতে যান, তখন প্রতিশ্রুতি পূরণের কোনো সুসংগঠিত মূল্যায়ন থাকে না। রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অগ্রগতি নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। ইশতেহারকে নির্বাচনি প্রচারের কাগজ নয়, জনগণের সঙ্গে একটি সামাজিক চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

দলের ভেতরে ভিন্নমতের জায়গা তৈরি করাও জরুরি। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো—একই দলের মধ্যে ভিন্ন মত থাকতে পারে। মতপার্থক্য মানেই ষড়যন্ত্র নয়। বরং যে দলে মতপার্থক্য প্রকাশের সুযোগ থাকে, সেই দল ভুল সংশোধনের সুযোগও পায়। বিপরীতে, যে দলে সবাই একই কথা বলেন, সেখানে হয়তো ঐক্য দেখা যায়; কিন্তু অনেক সময় সেই ঐক্য আসলে ভয়ের ফল।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারে নারীদের অংশগ্রহণও নতুনভাবে ভাবতে হবে। নারী নেতৃত্ব শুধু সংরক্ষিত আসন বা প্রতীকী পদে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ স্তরে নারীদের বাস্তব অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে তরুণদের জন্যও রাজনৈতিক দলের দরজা খুলতে হবে। তরুণদের কেবল মিছিলের জনশক্তি হিসেবে ব্যবহার করে নেতৃত্বের কাঠামো থেকে দূরে রাখা হলে রাজনীতি নতুন প্রজন্মের আস্থা হারাবে।

তবে রাজনৈতিক দলের সংস্কার মানে কেবল আইন করে দলকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়। অতিরিক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণও রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। দলীয় সংস্কারের নামে রাষ্ট্র যদি রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করে, তাহলে তা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে না। প্রয়োজন স্বাধীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিশ্চয়তা এবং একই সঙ্গে সাংগঠনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বাধ্যবাধকতা।

এখানে ভারসাম্য অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা সহজ; কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা কঠিন। কোনো দলের নেতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণ করতে হবে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের লাখ লাখ কর্মী ও সমর্থকের রাজনৈতিক অধিকারকে নির্বিচারে অস্বীকার করা গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে। আইন, বিচার ও রাজনৈতিক জবাবদিহির মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা থাকা দরকার। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ, কার্যক্রম সীমিতকরণ এবং দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা প্রমাণ করে—গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক জবাবদিহি ও রাজনৈতিক বহুত্ববাদকে একই সঙ্গে রক্ষা করার নীতি প্রয়োজন।

আমাদের মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্র কোনো দলের সম্পত্তি নয়। আজ যে দল ক্ষমতায়, আগামীকাল সে বিরোধী দলে যেতে পারে। আজ যে দল বিরোধিতার স্বাধীনতা চাইছে, আগামীকাল সে ক্ষমতায় গিয়ে সেই স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে। তাই রাজনৈতিক সংস্কারের নিয়ম এমন হতে হবে, যা ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

রাজনৈতিক দলের সংস্কার শুরু হতে পারে কয়েকটি মৌলিক পদক্ষেপ দিয়ে—দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনকে নিয়মিত ও অর্থবহ করা, দলীয় তহবিলের নিরীক্ষা প্রকাশ করা, প্রার্থী মনোনয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের বার্ষিক মূল্যায়ন প্রকাশ করা, নারী ও তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত করা এবং দলীয় নেতৃত্বের ওপর সাংগঠনিক সীমা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা।

সবচেয়ে বড় কথা, রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝতে হবে—গণতন্ত্র কেবল ভোটের দিন নয়। গণতন্ত্র একটি আচরণ, একটি সংস্কৃতি, একটি নৈতিক অঙ্গীকার। ভোটের আগে জনগণের কাছে যাওয়া, ভোটের পরে জনগণের কাছে জবাব দেওয়া—এই দুইয়ের মাঝখানে কোনো অন্ধকার ঘর থাকতে পারে না।

বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে বহু আলোচনা হচ্ছে। সংবিধান, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন—সব প্রতিষ্ঠান নিয়েই সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো যদি নিজেদের সংস্কার না করে, তাহলে রাষ্ট্রের অন্য সব সংস্কারই একসময় পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির কাছে পরাজিত হতে পারে। কারণ প্রতিষ্ঠান যতই শক্তিশালী হোক, তার ওপর রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রভাব থাকে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি জবাবদিহির ঊর্ধ্বে থাকে, তাহলে কোনো প্রতিষ্ঠানই দীর্ঘদিন স্বাধীন থাকতে পারে না।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু এই নয় যে, কোন দল ক্ষমতায় যাবে। আরও বড় প্রশ্ন হলো—ক্ষমতায় গিয়ে সেই দল কীভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করবে। ক্ষমতা কি ব্যক্তির সম্পদ হবে, নাকি জনগণের অর্পিত দায়িত্ব? দল কি রাষ্ট্রকে নিজের সম্প্রসারিত সংগঠন হিসেবে দেখবে, নাকি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখবে?

গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে রাজনৈতিক দলগুলোর এই আত্মসংযমের সক্ষমতায়। যে দল নিজেদের ভেতরে গণতন্ত্র চর্চা করতে পারে না, তারা রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি করলে সেই দাবি বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। যে দল নিজেদের অর্থের হিসাব দিতে ভয় পায়, তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নৈতিক অধিকার হারায়। যে দল নিজেদের নেতৃত্বকে প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখে, তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারে না।

সুতরাং রাজনৈতিক সংস্কারের আসল সূচনা হওয়া উচিত দলীয় কার্যালয়ের ভেতর থেকে। গণতন্ত্রের দরজা সংসদে পৌঁছানোর আগে খুলতে হবে রাজনৈতিক দলের ভেতরে। কারণ দল যদি বদলায়, রাজনীতি বদলাবে; রাজনীতি বদলালে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান বদলাবে; আর রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান বদলালে নাগরিকের জীবনেও পরিবর্তন আসবে।

বাংলাদেশের মানুষ আর শুধু ক্ষমতার পালাবদল চায় না; তারা ক্ষমতার ব্যবহারে পরিবর্তন চায়। তারা এমন রাজনীতি চায়, যেখানে নেতা জনগণের ওপরে নন, জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। আগামী দিনের রাজনীতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে—দলগুলো কি নিজেদের ক্ষমতার কাঠামোকে জনগণের জবাবদিহির কাঠামোয় রূপান্তর করতে পারবে?

এই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে, আমরা শুধু নতুন সরকার পাব, নাকি সত্যিই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি পাব।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ। drharun.press@gmail.com

এইচআর/এমএফএ/জেআইএম