উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪৯ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী স্পেনের ছিটমহল সিউতায় প্রবেশ করেছেন। এ সময় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
Advertisement
শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্পেনের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষ সমুদ্র সাঁতরে সিউতায় প্রবেশ করছে এমন অসংখ্য ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিউতা শহরের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৮৩ হাজার ৬০০ জন। সেখানে মাত্র এক দিনে মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি প্রায় ৪৯ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রবেশ করে ছিটমহলটিতে। এতে শহরটির খাদ্য, চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
Advertisement
এছাড়া বিশাল এই অভিবাসনপ্রত্যাশী মধ্যে অন্তত ৭ হাজার অপ্রাপ্তবয়স্ক বা শিশু বলে জানা গেছে। এদের অনেকেই সঙ্গে কোনো অভিভাবক ছাড়াই একা একা সীমান্ত পাড়ি দিয়েছে। স্প্যানিশ আইন অনুযায়ী শিশুদের আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এরইমধ্যে সিউতাতে অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ মোতায়েন করেছে স্পেন সরকার।
এর আগে, চলতি জুলাই মাসেই স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায় দেন। সেই রায়ে বলা হয়, সিউতা বা মেলিলার মতো স্প্যানিশ ছিটমহলগুলোতে সমুদ্রপথে পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় কোনো অভিবাসী ধরা পড়লে, তাকে তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো যাবে না।
মরক্কোর উত্তর উপকূলে অবস্থিত সেউতা জিব্রাল্টার প্রণালিতে স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন একটি ছিটমহল এবং ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীরা এটিকে প্রধান রুট হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছেন।
সূত্র: বিবিসি
Advertisement
এমএসএম