দেশজুড়ে

জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবন, শামিয়ানার নিচেই চলছে পাঠদান

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বৈঠাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় প্রায় এক মাস ধরে শামিয়ানার নিচে চলছে পাঠদান। তীব্র রোদ, বৃষ্টি আর কক্ষসংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়ের ১৪৫ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

Advertisement

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বৈঠাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবন এখন শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনের ছাদ, বিম ও দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ায় সেখানে পাঠদান বন্ধ প্রায় এক মাস ধরে। ফলে বিদ্যালয় মাঠে শামিয়ানা টানিয়েই নেওয়া হচ্ছে ক্লাস। রোদে প্রচণ্ড গরম, আর বৃষ্টিতে পানি চুঁইয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে বিদ্যালয়টির ১৪৫ শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষকেরা বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই জরাজীর্ণ ভবনের একটি কক্ষে বসছেন। স্থানীয় প্রশাসন অস্থায়ীভাবে টিনের ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও স্থায়ী ভবন নির্মাণের অপেক্ষায় রয়েছে বিদ্যালয়টি।

সম্প্রতি সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে। ভবনের খুঁটি ও দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনের সামনে খোলা জায়গায় শামিয়ানা টানিয়ে অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ তৈরি করে পাঠদান চলছে। তবে শামিয়ানার ফাঁক দিয়ে রোদ ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীদের গরমে কষ্ট করতে হচ্ছে। আবার বৃষ্টি হলে পানি চুঁইয়ে বই-খাতা ভিজে যায়।

Advertisement

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম বলে, শামিয়ানার ফুটো দিয়ে রোদ এসে গায়ে পড়ে। খুব গরম লাগে। ঝড় হলে ধুলাবালি উড়ে আসে। আবার বৃষ্টি হলে পানি পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়। তখন ক্লাস ছেড়ে দৌড়ে ভাঙা ভবনের ঘরে আশ্রয় নিতে হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমৃত কুমার সরকার বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই ছাদের চুন-সুরকি খুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গায়ে পড়ত। সর্বশেষ গত ২৩ জুন ক্লাস চলাকালে একটি কক্ষের বিমের নিচের অংশ ভেঙে পড়ে দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। এরপর কয়েক দিন বারান্দা ও খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চালানোর পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিদ্যালয় মাঠে শামিয়ানা টানিয়ে অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ তৈরি করা হয়। কক্ষের সংকট থাকায় শিক্ষকদের এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের একটি কক্ষে বসতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত টিনের কয়েকটি কক্ষ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। দ্রুত স্থায়ী সমাধান হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিশা ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামে ১৯৬২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। চার কক্ষবিশিষ্ট বর্তমান ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৯৪ সালে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন শিক্ষক এবং তিনজন কর্মচারী রয়েছেন।

Advertisement

বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, গত ছয়-সাত বছর ধরে জরাজীর্ণ ভবনের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলছে। শামিয়ানার নিচে ক্লাস করায় গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে, আবার সামান্য বৃষ্টিতেই বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়। তিনি দ্রুত টিনের অস্থায়ী কক্ষ নির্মাণ এবং নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাযহারুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পর বিদ্যালয় পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উন্নয়ন শাখায় আবেদন পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও জানানো হয়েছে।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরুজ্জামান বলেন, আপাতত টিন দিয়ে অস্থায়ী কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

আরমান হোসেন রুমন/কেএইচকে/এএসএম