অনেকের জীবনে শৈশবের প্রথম বন্ধু, প্রথম ঝগড়ার সঙ্গী, আবার সবচেয়ে বড় গোপন কথার মানুষ হলো তার বোন। ভাই-বোনের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি পরিবারের বোন শুধু সম্পর্কের উষ্ণতাই বাড়ান না, অনেক ক্ষেত্রেই শিশুদের মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দক্ষতা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
Advertisement
বিশ্ব বোন দিবস উপলক্ষে প্রশ্ন উঠতেই পারে-বোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠা শিশুদের আত্মবিশ্বাস কি সত্যিই বেশি?
আত্মবিশ্বাসের প্রথম পাঠ শুরু হয় পরিবারেমনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, একটি শিশুর আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠার প্রথম ক্ষেত্র হলো পরিবার। পরিবারে যদি খোলামেলা যোগাযোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আবেগ প্রকাশের পরিবেশ থাকে, তাহলে শিশু নিজের মতামত প্রকাশ করতে শেখে। অনেক ক্ষেত্রেই একজন বোন এই নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বিশেষ করে বড় বোন থাকলে ছোট ভাই বা বোন অনেক সময় নিজের সমস্যা, ভয় কিংবা দুশ্চিন্তার কথা বাবা-মায়ের আগেই তার সঙ্গে ভাগ করে নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এতে শিশুর আত্মপ্রকাশের ক্ষমতা বাড়ে।
Advertisement
শৈশবের সবচেয়ে নিরাপদ বন্ধন হলো ভাই-বোনের সম্পর্ক
আবেগ নিয়ন্ত্রণে বোনের ভূমিকাশৈশবে খেলাধুলা, ঝগড়া, অভিমান কিংবা মিলমিশই সামাজিক দক্ষতা শেখার অংশ। একজন বোনের সঙ্গে প্রতিদিনের এই ছোট ছোট অভিজ্ঞতা শিশুদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যেসব শিশু ভাই-বোনের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটায়, তারা মতবিরোধ সামলানো, ক্ষমা চাওয়া, সমঝোতা করা এবং অন্যের অনুভূতি বোঝার মতো দক্ষতা তুলনামূলক দ্রুত অর্জন করে। এই অভ্যাস পরবর্তীতে আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়ক হয়।
সামাজিক দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করেবোনের সঙ্গে বেড়ে ওঠা শিশুদের অনেকেই ছোটবেলা থেকেই ভাগাভাগি করা, সহযোগিতা করা এবং একসঙ্গে সমস্যা সমাধানের অভ্যাস গড়ে তোলে।
Advertisement
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পারিবারিক সম্পর্কভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, ইতিবাচক ভাই-বোনের সম্পর্ক থাকা শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতা তুলনামূলক ভালো হতে পারে। তারা নতুন পরিবেশে সহজে মানিয়ে নিতে এবং নতুন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করে।
অনেক শিশুর প্রথম ভরসার মানুষ হন তার বড় বোন
বড় বোন হতে পারেন অনুপ্রেরণাপরিবারের বড় বোন অনেক সময় ছোটদের জন্য রোল মডেল হয়ে ওঠেন। পড়াশোনা, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড কিংবা দৈনন্দিন দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি ছোটদের সামনে ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করেন।
আবার ছোট বোনও পরিবারের বড় সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়াতে ভূমিকা রাখে। ফলে সম্পর্কটি শুধু একজনকে নয়, পরিবারের একাধিক সদস্যকেই মানসিকভাবে সমৃদ্ধ করে।
তবে সব সম্পর্ক এক রকম নয়বিশেষজ্ঞরা এটিও মনে করিয়ে দেন, শুধু বোন থাকলেই আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে- এমন কোনো নিশ্চিত নিয়ম নেই। সম্পর্কটি কেমন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যদি পরিবারে নিয়মিত অপমান, সহিংসতা, বৈষম্য বা তীব্র দ্বন্দ্ব থাকে, তাহলে সেই সম্পর্ক শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও ফেলতে পারে। অন্যদিকে পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা এবং সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক শিশুদের আত্মবিশ্বাস গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন আজ জাতীয় প্রেমিকা দিবস, সম্পর্কে নতুন উষ্ণতা আনুন বিশ্ব বোন দিবসের বার্তাবিশ্ব বোন দিবস শুধু উপহার বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি শেয়ার করার উপলক্ষ নয়। এটি সেই মানুষটিকে ধন্যবাদ জানানোর দিন, যিনি হয়তো ছোটবেলায় আপনার সঙ্গে খেলেছেন, পড়িয়েছেন, বকেছেন, আবার কঠিন সময়ে নীরবে পাশে থেকেছেন।
আরও পড়ুন বন্ধুত্ব ভাঙার কষ্ট কি প্রেমের বিচ্ছেদের চেয়েও বেশিআত্মবিশ্বাসী মানুষ গড়ে ওঠার পেছনে পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক ভূমিকা থাকে। তবে একজন ভালো বোন সেই যাত্রাকে আরও সহজ, নিরাপদ এবং আনন্দময় করে তুলতে পারেন। তাই সম্পর্কটিকে যত্নে রাখুন, কারণ শৈশবের সেই বন্ধন অনেক সময় আজীবনের শক্তিতে পরিণত হয়।
সূত্র: ইনস্টিটিউট ফর ফ্যামিলি স্টাডিজ, মাদারলি, সাইকোলজি টুডে
এসএকেওয়াই