ক্যাম্পাস

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চাকসুর চার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি এখনো অপূর্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল স্বাস্থ্য সম্পাদক। দায়িত্ব গ্রহণের পর কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইশতেহার এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ফলে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবার প্রত্যাশা এখনো অপূর্ণই রয়ে গেছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা।

Advertisement

অপূর্ণ থাকা প্রতিশ্রুতিগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারকে ৩০ শয্যায় উন্নীত করা, গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালু এবং মেডিকেল সেন্টারে অ্যান্টি-ভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) সংরক্ষণ।

নির্বাচনি ইশতেহারে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিক, সহজলভ্য ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার লক্ষ্যে ১৪টি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলেও স্বাস্থ্যসেবার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইশতেহার অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারকে ৩০ শয্যায় উন্নীত করে ভর্তি রেখে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে স্বাস্থ্যবিমা চালু এবং ক্যাম্পাসে সাপের কামড়ের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেডিকেল সেন্টারে অ্যান্টি-ভেনম সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

Advertisement

স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল সেন্টারের শয্যা বৃদ্ধি সময়ের দাবি। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জরুরি চিকিৎসায় অ্যান্টি-ভেনম সংরক্ষণ নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিমা চালু হলে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয়ের চাপও অনেকাংশে কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্বাস্থ্যসেবা। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যসেবার মান এখনও তেমন ভালো হয়নি। ডাক্তার সংকট ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের নানা অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনের সময় হাসপাতালের বেড সংখ্যা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যবিমা চালুর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এগুলো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি উপকৃত হতো।

আরেক শিক্ষার্থী তোফায়েল মিয়া বলেন, মেডিকেল সেন্টারে অনেক সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পাওয়া যায় না। এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরও সংকট রয়েছে। তাই অন্য উদ্যোগের আগে এসব মৌলিক সমস্যার সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে চাকসুর স্বাস্থ্য সম্পাদক আফনান হাসান ইমরান বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারের অধিকাংশ বিষয়ে কাজ করা হয়েছে এবং কয়েকটি উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। তবে ৩০ শয্যার মেডিকেল সেন্টার ও গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়গুলো প্রশাসনিক বাজেট বরাদ্দ এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

Advertisement

অ্যান্টি-ভেনম সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, অ্যান্টি-ভেনম সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আইসিইউ-সুবিধা দরকার। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে সেই ব্যবস্থা নেই।

স্বাস্থ্যবিমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের তিনটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা থাকলেও শিক্ষার্থীদের জন্য নেই। কয়েকটি বিমা কোম্পানির সঙ্গে প্রাথমিকভাবে আলোচনা করেছি। তাদেরও কিছু শর্ত রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক হলে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা নিয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারটি ছোট, এখানে সাপের অ্যান্টি-ভেনম রাখা এ মুহূর্তে সম্ভব না। হাটহাজারীতে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালেও এ সেবা ভালো করে দিতে পারছে না।

স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালু করার জন্য আমরা আলাপ আলোচনা করছি। আমরা আমাদের জায়গা থেকে চেষ্টা করছি।

এমএমআরআর/কেএইচকে/এএসএম