আন্তর্জাতিক

সেভেন সিস্টার্স ছাড়াই ভারতের মানচিত্র ছাপাল ব্রিটিশ-ভারতীয় রেস্তোরাঁ

কমনওয়েলথ গেমসে সফল অভিযান শেষে ভারতীয় দলের সদস্যদের আপ্যায়নের সময় ‘বিশেষভাবে ছাপানো ন্যাপকিন’ ব্যবহার করে বিতর্কের মুখে পড়েছে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোর একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁ। ২০২০ টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী বক্সার লাভলিনা বোরগোহাইন খেয়াল করেন, ন্যাপকিনে ছাপানো মানচিত্রটিতে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে খ্যাত উত্তর-পূর্ব অঞ্চলটি সম্পূর্ণরূপে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

Advertisement

‘মিস্টার সিংস ইন্ডিয়া- দ্য হোম অব কারি’ নামক ওই রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে লাভলিনা বলেন, ন্যাপকিনের মানচিত্রে আমাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল বাদ পড়েছে। ভারতের প্রতিটি অংশই গুরুত্বপূর্ণ ও সঠিকভাবে তার প্রতিনিধিত্ব করা উচিত।

স্টার বক্সারের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বক্সিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (বিএফআই) সভাপতি অজয় সিং কাগজের ন্যাপকিনের সেই মানচিত্রে আরও কিছু বড় ধরনের ভুল তুলে ধরেন। যার মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের অসম্পূর্ণ চিত্রায়নও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

অজয় সিং ভারতের সম্পূর্ণ আঞ্চলিক অখণ্ডতা ফুটিয়ে তুলতে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ওই ভুল ন্যাপকিনগুলো বাজারজাতকরণ থেকে তুলে নেওয়া ও মানচিত্রটি সংশোধন করার আহ্বান জানান।

Advertisement

গ্লাসগোর অত্যন্ত পরিচিত এই রন্ধনশিল্প প্রতিষ্ঠানটি ক্রীড়া দল ওবিশিষ্ট ব্যক্তিদের সফরসূচির অন্যতম আকর্ষণ হলেও, এ বিষয়ে তারা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘মিস্টার সিংস ইন্ডিয়া’ পাঞ্জাবি ঐতিহ্য ও স্কটিশ আমেজকে একসঙ্গে পরিবেশন করে গ্লাসগোতে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছে।

সিং পরিবারের চার প্রজন্ম ধরে পরিচালিত এই রেস্তোরাঁটি খাবার, আতিথেয়তা ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পাঞ্জাবের রন্ধনশৈলীকে স্কটিশ প্রভাবের সঙ্গে মিশিয়ে এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে, যা গত তিন দশক ধরে শহরের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকে সমৃদ্ধ করেছে।

উল্লেখ্য, গ্লাসগোতে আয়োজিত ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় বক্সিং দল ৭টি স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস রচনা করেছে, যা এই প্রতিযোগিতায় দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ স্বর্ণ জয়ের রেকর্ড।

Advertisement

বক্সিং প্রতিযোগিতায় ১০টি পদক জিতে ভারত আধিপত্য বিস্তার করে; যেখানে প্রীতি, জাসমিন, সাক্ষী, প্রিয়া, অরুন্ধতী, শচীন সিওয়াচ ও অঙ্কুশ পাঙ্গাল স্বর্ণপদক অর্জন করেন। পাশাপাশি জাদুমণি সিং, লাভলিনা বোরগোহাইন ও নরেন্দর রৌপ্য পদক নিশ্চিত করেন।

কমনওয়েলথ গেমসের বক্সিং ইতিহাসে এটিই ভারতের সেরা পারফরম্যান্স। গ্লাসগো ২০২৬ আসরের আগে পর্যন্ত সার্বিকভাবে ভারত মোট ৪৪টি পদক জিতেছিল, যার মধ্যে ১১টি স্বর্ণ, ১৩টি রৌপ্য ও ২০টি ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

এসএএইচ