অর্থনীতি

দাপট দেখালো মিউচুয়াল ফান্ড, বাড়লো লেনদেন, সূচক মিশ্র

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (২ আগস্ট) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখিয়েছে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো। মিউচুয়াল ফান্ডের দাপটে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। তবে মূল সূচকে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।

Advertisement

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্য সূচক বেড়েছে। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে একাধিক মিউচুয়াল ফান্ড। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে সার্বিক বাজারে। ফলে মূল্য সূচকের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।

আরও পড়ুন মুনাফা বেড়েছে তিন বিমা কোম্পানির, কমেছে তিনটির 

লেনদেনের শেষ পর্যন্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলেও অন্য খাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান বিপরীত পথে হাঁটে। বিশেষ করে বড় মূলধনের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমে যায়। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পরও মূল্য সূচকের মিশ্র প্রবণতা দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।

Advertisement

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৯৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৪৯টির এবং ৪৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে, ৩২টি মিউচুয়াল ফান্ডর দাম বাড়ার বিপরীতে একটির দাম কমেছে এবং একটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮৬টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৪৩টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪টির এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৯টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় দশমিক ২০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। তবে অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১৩ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৯২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

Advertisement

মূল্য সূচক মিশ্র থাকলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ২১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এসিআই ফর্মুলেশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকার। ২৩ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরি।

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- বেক্সিমকো, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, আইটি কনসালটেন্টস, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, কপারটেক, আইপিডিসি ফাইন্যান্স এবং সায়হাম কটন।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৩৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৬টির এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

এমএএস/এসএনআর