বর্তমানে বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম। একের পর এক প্রশংসিত ছবিতে অভিনয় করে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন তিনি। সম্প্রতি ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘আর্টিকেল ৩৭০’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর সম্মানও অর্জন করেছেন। তবে এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে এক কঠিন সময়ের গল্প।
Advertisement
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামি জানান, ক্যারিয়ারের একটি পর্যায়ে তিনি অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমনকি বলিউড ছেড়ে হিমাচল প্রদেশে ফিরে গিয়ে চাষাবাদ করে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনাও করেছিলেন।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ভিকি ডোনার’ ছবিতে অভিনয়ের পর তিনি প্রত্যাশিত সুযোগ পাচ্ছিলেন না। ভালো চরিত্রের অভাব এবং দীর্ঘদিন অপেক্ষার কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
আরও পড়ুন রণবীরই কেন ছিলেন ‘ধুরন্ধর’র প্রথম পছন্দ?ইয়ামি বলেন, ‘উরি’ এবং ‘বালা’ ছবির আগে আমি ঠিক করে ফেলেছিলাম যে ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে চলে যাব। আমাদের হিমাচলে চাষের জমি আছে। আমি সেখানে ফিরে গিয়ে একেবারে ভিন্ন ধরনের জীবন শুরু করতে চেয়েছিলাম। আমার বাবা-মাও সেই সিদ্ধান্তে সমর্থন করেছিলেন।’
Advertisement
তবে শেষ মুহূর্তে বদলে যায় সবকিছু। অভিনেত্রীর কথায়, ‘যেদিন থেকে ইন্ডাস্ট্রিকে ভয় পাওয়া বন্ধ করলাম, সেদিন থেকেই সব বদলে যেতে শুরু করল। এরপর একের পর এক এমন চরিত্র পেয়েছি, যেগুলো আমার জীবন ও ক্যারিয়ার বদলে দিয়েছে।’
বলিউডে বহিরাগত হিসেবে পথচলার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ইয়ামি। তিনি বলেন, চলচ্চিত্র পরিবার থেকে না আসায় প্রতিটি সুযোগের জন্য তাকে আলাদাভাবে সংগ্রাম করতে হয়েছে।
‘একটি চরিত্রের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যেত, অন্য কেউ খুব সহজেই সেই সুযোগ পেয়ে গেছে। আমারও যদি সেই ধরনের সুযোগ মিলত, তাহলে হয়তো নিজেকে আরও ভালোভাবে প্রমাণ করতে পারতাম। এসব কারণেই একসময় ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছিলাম’, বলেন তিনি।
আরও পড়ুন দেবীরূপে ইধিকা পাল, কতটা সত্য এই গুঞ্জন?তবে সেই হতাশা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফেরেন ইয়ামি। ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’, ‘বালা’, ‘এ থার্সডে’, ‘ওএমজি ২’ এবং ‘আর্টিকেল ৩৭০’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান।
Advertisement
সম্প্রতি ‘আর্টিকেল ৩৭০’ ছবির জন্য ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর স্বীকৃতি পেয়েছেন ইয়ামি গৌতম। একই সঙ্গে ছবিটি শ্রেষ্ঠ ফিচার ফিল্মের পুরস্কারও জিতেছে। জাতীয় পুরস্কার অর্জনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তায় তিনি এই স্বীকৃতির জন্য দর্শক, সহকর্মী এবং পুরো টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আজ জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হিসেবে সাফল্যের শিখরে থাকলেও, একসময় অভিনয় ছেড়ে চাষাবাদের মাধ্যমে নতুন জীবন শুরু করার কথাই ভেবেছিলেন ইয়ামি। তবে ভাগ্যের মোড় ঘুরে যাওয়ায় সেই সিদ্ধান্ত আর বাস্তবায়ন করতে হয়নি।
এমএমএফ/জেআইএম