ঋতু বদলের এ সময় সর্দি, কাশি আর গলাব্যথা প্রায় প্রতিটি ঘরের পরিচিত সমস্যা। অনেকেই দ্রুত আরাম পেতে ওষুধের দিকে ঝোঁকেন। তবে আমাদের ঘরোয়া চিকিৎসার এমন কিছু সহজ উপায় আছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তেমনই একটি জনপ্রিয় ঘরোয়া প্রতিকার হলো কমলার রসের বিশেষ মিশ্রণ, যা কফ কমাতে, গলা আরাম দিতে এবং শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
Advertisement
কমলার পুষ্টিগুণকমলা শুধু সুস্বাদু ফল নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। এতে আছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রয়োজনীয় খনিজ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। ঠান্ডা-কাশির মৌসুমে নিয়মিত কমলা খেলে শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি পায়। অনেকে বিশ্বাস করেন, হালকা গরম কমলার রস পান করলে বন্ধ নাক, গলায় জমে থাকা কফ এবং কাশি উপশমে কিছুটা স্বস্তি মেলে।
যেভাবে তৈরি করবেন ১ তাজা কমলা, ১ চা চামচ খাঁটি মধু এবং সামান্য গুঁড়া কালো মরিচ। প্রথমে কমলালেবুর গায়ে একটি ছোট গর্ত করে তাতে মধু ও কালো মরিচ ঢেলে দিন। এরপর ফলটি সামান্য গরম পরিবেশে যেমন উষ্ণ ছাই বা হালকা তাপে,কয়েক মিনিট রেখে দিন, যাতে ভেতর থেকে উষ্ণ হয়। ফল নরম হয়ে এলে রস বের করে নিন। এই উষ্ণ রসই হলো পুরো প্রতিকারের মূল উপাদান।
কেন উপকারী এই মিশ্রণ?কমলার ভিটামিন সি-এর সঙ্গে মধু ও কালো মরিচ মিলেই তৈরি হয় এই ঘরোয়া পানীয়ের কার্যকারিতা। মধুতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ, যা গলা ব্যথা ও খুসখুসে কাশি কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে কালো গোল মরিচ শরীরে উষ্ণতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং জমে থাকা কফ পাতলা করতে ভূমিকা রাখে।
Advertisement
কখন ও কীভাবে পান করবেনরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ধীরে ধীরে এই রস পান করলে শরীরে উষ্ণতা অনুভূত হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে হালকা ঘামও দেখা যায়, যা ঠান্ডাভাব কমাতে সাহায্য করে।
পরদিন সকালে গলা হালকা লাগা, নাক কিছুটা পরিষ্কার হওয়া বা কফ কমে আসবে। যদিও এটি কোনো ম্যাজিক সমাধান নয়, তবে সাধারণ ঠান্ডা-কাশির ক্ষেত্রে উপকার পেতে পারেন।
এটি কেবল সাধারণ সর্দি-কাশির জন্য সহায়ক ঘরোয়া উপায়। যদি জ্বর বেশি থাকে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুক ব্যথা করে বা সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, হেলথ শটস
Advertisement
আরও পড়ুন: রাতে ভালো ঘুমের জন্য পান করুন ভেষজ চাটানা ভাজাপোড়া খেলে শরীরে যেসব পরিবর্তন হতে পারে
এসএকেওয়াই/এএসএম