ঋতুচক্রের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ এক পাশে তলপেটে ব্যথা - অনেক নারীই এমন অভিজ্ঞতার কথা বলেন। ব্যথাটা কখনো হালকা, কখনো আবার কয়েক ঘণ্টা বেশ অস্বস্তিকরও হতে পারে।
Advertisement
অনেকেই তখন ভাবেন, হঠাৎ এমন ব্যথা কেন হচ্ছে? চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ওভ্যুলেশন পেইন বা মিটেলশমার্জ।
ওভ্যুলেশন হলো মাসিক চক্রের এমন একটি সময়, যখন ডিম্বাশয় থেকে একটি ডিম্বাণু বের হয়। সাধারণত মাসিক শুরু হওয়ার প্রায় ১২ থেকে ১৪ দিন আগে এই প্রক্রিয়া ঘটে। এই সময় ডিম্বাশয়ের ভেতরের ছোট থলির মতো গঠনটি ফেটে ডিম্বাণু বের হয়, আর সেই প্রক্রিয়ার কারণেই অনেক নারীর তলপেটে সাময়িক ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
কেন এই ব্যথা হয়ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু বের হওয়ার সময় ওই থলিটি ফেটে যায় এবং সামান্য তরল বা রক্ত বের হতে পারে। এটি পেটের ভেতরের আস্তরণে সামান্য উত্তেজনা তৈরি করে, যার ফলে তলপেটে ব্যথা অনুভূত হয়।
Advertisement
এই ব্যথা সাধারণত পেটের এক পাশেই হয়, কারণ প্রতি মাসে একটি ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু বের হয়। কখনো ডান পাশে, কখনো বাম পাশে - মাস ভেদে জায়গাটিও বদলাতে পারে।
কেমন লাগে এই ব্যথাওভ্যুলেশন পেইন সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়। অনেকের ক্ষেত্রে এটি কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। আবার কারও ক্ষেত্রে এক-দুদিন পর্যন্ত হালকা ব্যথা থাকতে পারে।
ব্যথার ধরনও ভিন্ন হতে পারে - কখনো তীক্ষ্ণ খোঁচা লাগার মতো, কখনো আবার চাপা বা টানটান ধরনের ব্যথা। অনেক সময় এর সঙ্গে হালকা রক্তপাত বা স্বচ্ছ স্রাবও দেখা যেতে পারে, যা সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়।
এটি কি স্বাভাবিক?চিকিৎসকদের মতে, অনেক নারীর ক্ষেত্রেই ওভ্যুলেশন পেইন একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ঘটনা। তবে যদি ব্যথা খুব তীব্র হয়, দীর্ঘ সময় থাকে বা জ্বর, বমি কিংবা অতিরিক্ত রক্তপাতের মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ কিছু ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়ের সিস্ট, সংক্রমণ বা অন্য কোনো সমস্যাও এমন ব্যথার কারণ হতে পারে।
Advertisement
সাধারণত হালকা বিশ্রাম, উষ্ণ সেঁক বা প্রয়োজন হলে সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে এই অস্বস্তি কমে যায়। অনেক সময় মাসিক চক্র নিয়মিত থাকলে নারীরা বুঝতে পারেন কখন এই ব্যথা হতে পারে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুত থাকতে পারেন।
মাসিক চক্রের একটি স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই অনেক নারীর জীবনে ওভ্যুলেশন পেইন দেখা দেয়। শরীরের এই ছোট ছোট সংকেতগুলো বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে অপ্রয়োজনীয় ভয়ও কমে, আবার প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াও সহজ হয়।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস
এএমপি/এমএস