মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
Advertisement
এখন অনেক আম গাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। এ সময়ে গাছের জন্য বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। যাতে মুকুল থেকে বেশি আম ধরে এবং ভালোভাবে টিকে থাকে। আমের ভালো ফলনের জন্য গাছের প্রতিটি ধাপেই সতর্ক পরিচর্যা জরুরি। মুকুল আসার সময় থেকে শুরু করে আম পুরোপুরি বড় হয়ে সংগ্রহ পর্যন্ত সঠিক পরিচর্যা করলে গাছ রোগমুক্ত থাকে এবং ফলনও ভালো হয়।
মুকুল আসার পর করণীয়মুকুল আসার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করলে আমের গুণমান ও ফলন বাড়ে। শুষ্ক মৌসুমে মুকুল আসার এক থেকে দেড় মাস আগে গাছে সেচ বন্ধ রাখলে গাছের স্ট্রেস বাড়ে এবং মুকুল বের হতে সাহায্য করে। মুকুল বেরোনোর পর হালকা সেচ দিয়ে মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা রাখতে হবে। মৃত বা রোগাক্রান্ত ডালপালা ছেঁটে গাছ পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। ঝরে পড়া পাতা ও মরা ডাল সরিয়ে ফেললে ছত্রাক ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে।
সারের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। মুকুল আসার দুই-তিন মাস আগে সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। মুকুল আসার সময় সার প্রয়োগ করা উচিত নয়। পটাশ সার মুকুল ও ফল ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এ সময়ে হপার পোকা ও পাউডারি মিলডিউ প্রতিরোধে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করা উচিত। প্রথম স্প্রে মুকুল বের হওয়ার আগে এবং দ্বিতীয় স্প্রে ফুল ফোটার সময় বা পরে করলে ভালো ফলন নিশ্চিত হয়।
Advertisement
মটরদানা পর্যায়ে করণীয়যখন মুকুল থেকে গুটি বাঁধতে শুরু করে; তখন গাছের যত্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ। সেচ দেওয়া অপরিহার্য। কারণ মাটির আর্দ্রতা কম হলে নতুন গুটি ঝরে পড়তে পারে। গোড়ায় পর্যাপ্ত জল দিয়ে হালকা সেচ বজায় রাখতে হবে।
ফলন বৃদ্ধি করতে পুষ্টি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। প্ল্যান্ট গ্রোথ রেগুলেটর যেমন- প্লানোফিক্স, চিলেটেড বোরন এবং পটাশ সার স্প্রে করলে গুটি ঝরা কমে ও ফলের আকার ভালো হয়। হপার পোকা, মিলিবাগ এবং ছত্রাক রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। অতিরিক্ত গুটি থাকলে পাতলা করা উচিত। যাতে বাকি গুটি পুষ্টি পেয়ে বড় ও সুস্থ হয়।
আম বড় হলে করণীয়মটরদানা থেকে মার্বেলের আকারে বড় হওয়ার সময় পর্যাপ্ত জল সরবরাহ বজায় রাখতে হবে। নিয়মিত হালকা সেচ দিয়ে মাটির আর্দ্রতা ঠিক রাখা অপরিহার্য। পুষ্টি জোগাতে গোড়ায় ইউরিয়া ও পটাশ সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। পাতার মাধ্যমে পটাশ ও বোরন মিশ্রিত স্প্রে দিলে ফলের আকার ও গুণমান উন্নত হয়।
আরও পড়ুনআমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে ভরপুর চাঁপাইনবাবগঞ্জফলের মাছি, শ্যামাপোকা এবং অ্যানথ্রাকনোজসহ অন্যান্য ছত্রাক ও পোকা আক্রমণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনমতো কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক স্প্রে করা উচিত। অতিরিক্ত ফল থাকলে কিছু আম ছেঁটে দিতে হবে, যাতে বাকি ফল বড় ও সুস্থ থাকে। ব্যাগিং করলে ভালো মানের, দাগমুক্ত ফল পাওয়া যায়।
Advertisement
আম পাকার পর করণীয়আম পুরোপুরি পেকে গেলে গাছের পরিচর্যা শেষ নয়। পাড়া শেষে মৃত, শুকনো ও রোগাক্রান্ত ডাল ছাঁটাই করতে হবে। গাছের নিচের এলাকা পরিষ্কার রাখা জরুরি। বর্ষার আগে অনুমোদিত সার প্রয়োগ করলে গাছের পুষ্টি ঠিক থাকে। কাটা স্থানে বোর্দো পেস্ট লাগিয়ে ছত্রাক প্রতিরোধ করা উচিত। সম্পূর্ণ গাছে প্রতিরোধমূলক কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করলে বাগান সুস্থ থাকে এবং আগামী বছরের জন্য ফলনের ভিত্তি তৈরি হয়।
এসইউ