ঈদে অতিথির আগমন নতুন কিছু নয়। আর এই অতিথি আসা কারও জন্য আনন্দের, আবার কারও জন্য খানিকটা দুশ্চিন্তারও। কীভাবে সব কিছু গুছিয়ে নেওয়া যাবে, কী রান্না হবে, ঘরদোর কতটা পরিপাটি এসব ভাবনায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। তবে একটু পরিকল্পনা আর আগাম প্রস্তুতি থাকলে অতিথি আপ্যায়ন হয়ে উঠতে পারে সহজ, স্বস্তিদায়ক এবং আনন্দময়।
Advertisement
অতিথি আপ্যায়নের প্রথম ধাপ হলো পরিকল্পনা। অতিথি কয়জন আসবেন, তারা কতক্ষণ থাকবেন, খাওয়া-দাওয়া করবেন কি না এসব বিষয় আগে থেকেই জেনে নিন। এতে করে আপনি ঠিক করতে পারবেন কী পরিমাণ প্রস্তুতি প্রয়োজন। একটি ছোট তালিকা তৈরি করুন। কী কী করতে হবে, কী কী কিনতে হবে, কোন কাজ আগে করবেন। তালিকা থাকলে কিছু বাদ পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
ঘরদোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুনঅতিথি আসার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘরের পরিবেশ। পুরো ঘর ঝকঝকে না হলেও, অন্তত ড্রয়িংরুম, ডাইনিং স্পেস এবং বাথরুম পরিষ্কার রাখুন। টেবিল, সোফা, কুশন ঠিকঠাক করুন। অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে রাখুন। বাথরুমে পরিষ্কার তোয়ালে ও সাবান রাখুন। পরিপাটি ঘর অতিথির মনে প্রথমেই ইতিবাচক ছাপ ফেলে।
সহজ কিন্তু আকর্ষণীয় খাবারের পরিকল্পনাখাবার নিয়ে বেশি জটিলতা না করে সহজ এবং পরিচিত মেনু বেছে নিন। খুব বেশি আইটেম করার চেয়ে ২–৩টি ভালো আইটেমই যথেষ্ট। যেমন হতে পারে- চা/কফি ও হালকা নাস্তা, ফল বা ডেজার্ট। চাইলে একটি স্পেশাল আইটেম (পোলাও, বিরিয়ানি বা পাস্তা)। যদি সময় কম থাকে, তাহলে কিছু খাবার আগেই প্রস্তুত করে রাখতে পারেন বা আধা-রেডি অবস্থায় রাখুন।
Advertisement
অতিথি আসার ঠিক আগে বাজারে দৌড়াদৌড়ি না করে আগেই প্রয়োজনীয় সব জিনিস কিনে রাখুন। নাস্তার উপকরণ, পানীয়, টিস্যু, সাবান, মোমবাতি (প্রয়োজনে)- এতে শেষ মুহূর্তের চাপ অনেকটাই কমে যাবে।
নিজের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণশুধু ঘর বা খাবার নয়, নিজের প্রস্তুতিও সমান জরুরি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরুন, নিজেকে ফ্রেশ রাখুন। অতিথির সামনে ক্লান্ত বা বিরক্ত দেখালে পুরো পরিবেশটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই নিজের জন্য একটু সময় রাখুন।
ছোটখাটো ডেকোরেশন যোগ করুনঅল্প কিছু পরিবর্তনেও ঘরের সৌন্দর্য বেড়ে যায়। যেমন- টেবিলে ফুল রাখা, হালকা সুগন্ধি ব্যবহার, পরিপাটি কুশন ও পর্দা। এসব ছোটখাটো বিষয় অতিথির নজর এড়ায় না।
আন্তরিক আচরণই আসলসবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনার আচরণ। খাবার বা সাজসজ্জা যতই ভালো হোক, যদি আন্তরিকতা না থাকে, তবে অতিথি তৃপ্তি পাবেন না। হাসিমুখে স্বাগত জানান, আরাম করে বসতে বলুন, খোঁজখবর নিন। অতিথির যেন মনে হয়, তারা সত্যিই আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
Advertisement
যদি বাসায় বাচ্চা থাকে, তাদেরও আগে থেকে বলে রাখুন অতিথি আসবে। যেন তারা অতিরিক্ত হৈচৈ না করে বা অগোছালো না করে। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও ছোটখাটো দায়িত্ব ভাগ করে দিন। কেউ পানি দেবে, কেউ খাবার পরিবেশন করবে এতে কাজ সহজ হয়।
জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুনকখনো কখনো পরিকল্পনা মতো সব কিছু হয় না। বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, খাবার কম পড়ে যাওয়া এমন পরিস্থিতির জন্য বিকল্প ভাবনা রাখুন। চার্জ লাইট বা মোমবাতি, অতিরিক্ত শুকনো খাবার। এগুলো থাকলে হঠাৎ সমস্যা সামলানো সহজ হয়।
অতিথি আপ্যায়ন মানে শুধু ভালো খাবার বা সুন্দর ঘর নয়, এটি একটি অনুভূতি। আপনার আন্তরিকতা, যত্ন আর ভালোবাসাই অতিথির মনে জায়গা করে নেয়। তাই অযথা চাপ না নিয়ে, সহজভাবে পরিকল্পনা করুন, একটু সময় দিন, আর ভালোবাসা দিয়ে অতিথিকে আপ্যায়ন করুন। দেখবেন আপনার ছোট্ট আয়োজনই হয়ে উঠবে সবার কাছে স্মরণীয়।
জেএস/