অনেকেই বাদাম বলতে কাজু, কাঠবাদাম বা চিনাবাদামকেই বেশি গুরুত্ব দেন। কিন্তু পুষ্টিগুণের দিক থেকে আখরোটও কোনো অংশে কম নয় বরং অনেক ক্ষেত্রেই এগিয়ে। ছোট এই বাদামটি আসলে এক ধরনের সুপারফুড, যা নিয়মিত খেলে শরীরের নানা উপকার পাওয়া যায়। বিশেষ করে এতে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়ামসহ নানা খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Advertisement
সম্প্রতি আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া ওয়ালনাট কমিশন ‘পাওয়ার অব থ্রি’ নামে একটি প্রচার চালু করেছে, যার লক্ষ্য মানুষকে ওমেগা-৩ সম্পর্কে সচেতন করা। এই প্রচারের মূল বার্তা হলো, প্রাকৃতিক উৎস থেকে ওমেগা-৩ পেতে আখরোট অন্যতম সেরা। বিশেষ করে আখরোটে যে ধরনের ওমেগা-৩ পাওয়া যায়, তা হলো আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড (এএলএ), যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
হৃদযন্ত্র ভালো রাখেআখরোট হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত আখরোট খান, তাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। এর পেছনে রয়েছে এতে থাকা উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমায় এবং ধমনি ও শিরায় রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখে। ফলে হার্ট সুস্থ থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের সমস্যার ঝুঁকি কমে।
মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায়শিশুদের বেড়ে ওঠার সময়ে মস্তিষ্কের সঠিক বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আখরোটে থাকা ওমেগা-৩ (এএলএ) এই বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাই শিশুদের খাবারের তালিকায় অল্প পরিমাণে আখরোট রাখা ভালো। শুধু শিশুদের জন্যই নয়, বয়স্কদের ক্ষেত্রেও এটি উপকারী। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের স্মৃতিশক্তি কমে যায় বা স্নায়বিক দুর্বলতা দেখা দেয়। নিয়মিত আখরোট খেলে এই সমস্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
Advertisement
বয়স বাড়লে শরীরে ত্বকে বলিরেখা পড়ে, পেশি দুর্বল হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তবে আখরোটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও ওমেগা-৩ এই প্রক্রিয়াকে কিছুটা ধীর করতে সাহায্য করে। এটি কোষের ক্ষয় কমায় এবং নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে। ফলে ত্বক তুলনামূলকভাবে সতেজ থাকে এবং শরীরের ভেতরকার শক্তিও বজায় থাকে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়আখরোটে থাকা ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত আখরোট খেলে শরীর সহজে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। বিশেষ করে মৌসুমি অসুখ-বিসুখের সময় এটি শরীরকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করেঅনেকে ভাবেন বাদাম খেলে ওজন বাড়ে। কিন্তু পরিমিত পরিমাণে আখরোট খেলে উল্টো উপকারই পাওয়া যায়। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। এতে করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
হজমশক্তি উন্নত করেআখরোটে কিছু পরিমাণ ফাইবারও থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, ফলে হজম ভালো হয় এবং পেটের নানা সমস্যা কমে।
Advertisement
প্রতিদিন ২-৪টি আখরোট খাওয়াই যথেষ্ট। সকালে ভিজিয়ে খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া সালাদ, ওটস বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে ক্যালোরির পরিমাণ বেশি।
সতর্কতাযাদের বাদামে অ্যালার্জি আছে, তারা আখরোট খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন। এছাড়া যাদের বিশেষ কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই নিরাপদ।ছোট এই আখরোটের ভেতর লুকিয়ে আছে বড় ধরনের পুষ্টিগুণ। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে আখরোট খেলে হৃদযন্ত্র থেকে শুরু করে মস্তিষ্ক, ত্বক ভালো থাকে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস , হেলথ লাইন
আরও পড়ুন: ভাতের সঙ্গে লবণ খাচ্ছেন? অতিরিক্ত লবণ শরীরে যা ঘটায় শরীরে যেসব সমস্যা থাকলে গরম আরও বেশি লাগেএসএকেওয়াই