ব্যস্ততার এই সময়ে অনেকেই খাবার খাওয়াকে শুধু একটি কাজ হিসেবে দেখেন, দ্রুত খেয়ে উঠে পড়াই যেন লক্ষ্য। কিন্তু এই অভ্যাসটি অজান্তেই শরীরের জন্য বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে দ্রুত খাওয়ার সঙ্গে ওজন বৃদ্ধির একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যা একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে।
Advertisement
মানবদেহের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলো, পেট ভরে গেলে মস্তিষ্ককে সংকেত পাঠানো। এই সংকেত পৌঁছাতে সাধারণত প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু কেউ যদি খুব দ্রুত খেয়ে ফেলেন, তাহলে মস্তিষ্ক বুঝে ওঠার আগেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার খাওয়া হয়ে যায়। ফলাফল অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ, যা ধীরে ধীরে ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গবেষণা কী বলছে?বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দ্রুত খাবার খান, তাদের শরীরের ওজন সাধারণত বেশি হয়। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে তাদের ওজন বাড়ার প্রবণতাও বেশি।
একটি বিশ্লেষণধর্মী গবেষণায় দেখা যায়, দ্রুত খাওয়ার সঙ্গে শরীরের ভরসূচক ও কোমরের মাপ বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে যারা ধীরে খান, তাদের বিএমআই তুলনামূলক কম থাকে। আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, ধীরে খেলে মোট ক্যালরি গ্রহণ ৮–১০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Advertisement
এছাড়া দ্রুত খাওয়ার সময় অনেকেই অজান্তে বেশি বাতাস গিলে ফেলেন, যা পেটের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: দাঁড়িয়ে পানি পান করা কি সত্যিই ক্ষতিকর? টিকা নিয়েও রোগ, জানুন হাম-পক্সের অজানা সত্য তাড়াহুড়ো করে খাবার খাওয়ার অভ্যাস কি আপনারও? ধীরে খাওয়ার উপকারিতা তৃপ্তি দ্রুত আসে কম ক্যালরি গ্রহণ করা হয় হজম ভালো হয় ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ধীরে খাওয়ার ফলে শরীরে তৃপ্তির অনুভূতি বাড়ে এবং ক্ষুধা কমে।
কেন আমরা দ্রুত খাই? মোবাইল বা টিভি দেখতে দেখতে খাওয়া কাজ করতে করতে খাওয়া সময়ের চাপএসব কারণে খাবারের প্রতি মনোযোগ কমে যায়, ফলে কখন কতটা খাওয়া হচ্ছে—তা বোঝা যায় না।
যেভাবে বদলাবেন এই অভ্যাস প্রতিটি খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান খাওয়ার সময় স্ক্রিন (মোবাইল/টিভি) এড়িয়ে চলুন তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে খান মাঝেমধ্যে বিরতি নিনখাবার শুধু শরীরের জ্বালানি নয়, এটি একটি অভিজ্ঞতাও। তাই দ্রুত খাওয়ার বদলে ধীরে, সচেতনভাবে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে শুধু ওজনই নিয়ন্ত্রণে থাকবে না, বরং সুস্থ জীবনযাপনও সহজ হবে।
Advertisement
তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন, ওয়েব এমডি
জেএস/