ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে পার্বত্য অঞ্চলের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য অ্যাডভোকেট মাধবী মারমাকে মনোনীত করেছে বিএনপি। পূর্বে তার আওয়ামী সংশ্লিষ্টতা আলোচনা-সমালোচনার শুরু হয়েছে। দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
Advertisement
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাধবী মারমাসহ ৩৬ জনের নাম প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এর পর থেকেই এলাকাজুড়ে চলছে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বান্দরবান জেলা বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা এক সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে ফৌজদারি (ক্রিমিনাল) মামলায় সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরের (এপিপি) দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় কার্যক্রমে তেমন সক্রিয় না থাকার পাশাপাশি দলীয় পদবীও ছিল না তার। অন্যদিকে অন্য প্রার্থীরা দলের দুঃসময়ে যেমন দলকে সময় দিয়েছিলেন নির্যাতিতও হয়েছিলেন। মনোনয়নে ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায় দলীয় একাংশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনথি ইয়া লেখেন, ‘আওয়ামী লীগের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মাধবী মারমা বিএনপির মহিলা এমপি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন৷ অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা ২০০৯-২০১৫ পর্যন্ত আওয়ামী সরকারের দলীয় এপিপি ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে আওয়ামী সরকার কতৃক মনোনীত নোটারী পাবলিকের আইনজীবী ছিলেন। আবারও অভিনন্দন আপু।’
Advertisement
বান্দরবান শ্রমিকদলের প্রচার সম্পাদক জগদ্বীস বড়ুয়া বলেন, ‘মাধবী মারমা কোনো সময় দলের পক্ষে কাজ করেননি ও পদ পদবিও ছিল না। নির্বাচনের সময় আসা যাওয়া শুরু করেন তিনি। এ নিয়ে দলীয় ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানান তিনি।
বান্দরবানের জিয়া সাইবার ফোর্সের যুগ্ম-আহ্বায়ক লিখেছেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলে এপিপি! অন্তরর্বর্তীতে জেলা পরিষদের সদস্য! বিএনপিতে সংরক্ষিত সংসদ সদস্য! মাধবী মারমা সত্যি সে অসাধারণ মেধাবী! অভিনন্দন।’
এ বিষয়ে জানতে মাধবী মারমাকে মুঠোফোনে একাধিক বার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক মুজিবুর রশিদ জানান, দলীয় ত্যাগী নেত্রীদের মধ্যে জেলা পর্যায়ের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনাকে সমর্থন করেছিলেন। মাধবী মারমার দলীয় পদ-পদবি বা সদস্য না থাকলেও বিভিন্ন মিটিং বা মিছিলে থাকতেন এবং দলের পক্ষে কাজ করেতেন। তবে দলীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতি নির্ধারকদের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। এর বাইরে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
Advertisement
নয়ন চক্রবর্তী/এমএন/এএসএম