নামটা যখন মাইকেল জ্যাকশন, তখন বিতর্ক যেন অবধারিত। ‘কিং অব পপ’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে তার জনপ্রিয়তা আজও আকাশচুম্বী। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা অভিযোগ-সমালোচনাও পিছু ছাড়েনি কখনো। তাই তার জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
Advertisement
অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। আগামী ২৪ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘মাইকেল’। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের ধারণা, মুক্তির পর বড় ধরনের সাফল্য পেতে পারে সিনেমাটি।
মুক্তির আগেই সিনেমাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল আগ্রহ। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-এই বায়োপিক কি মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের পূর্ণাঙ্গ গল্প তুলে ধরবে?
২০১৮ সালের ‘বোহেমিয়ান র্যাপসোডি’ নানা সমস্যার মধ্য দিয়েও বিশ্বব্যাপী বিপুল সাফল্য পায়। চারটি অস্কারজয়ী সেই সিনেমার প্রযোজক ‘গ্রাহাম কিং’ই এবার মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের গল্প বড় পর্দায় তুলে আনছেন।
Advertisement
তবে শুরু থেকেই সহজ ছিল না এই প্রজেক্ট। কারণ, জ্যাকসনের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গুরুতর অভিযোগ, বিশেষ করে শিশু নির্যাতনের বিষয়টি। ১৯৯৪ সালে জর্ডান চ্যান্ডলারের সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতা এবং ২০০৫ সালে ফৌজদারি মামলায় খালাস-এই দুই ঘটনাই তার জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়।
জ্যাকসনের এস্টেটের পক্ষ থেকে বরাবরই দাবি করা হয়েছে, তিনি নির্দোষ এবং আদালতের রায় সেটিই প্রমাণ করে।
তবুও এসব অভিযোগ তার ইমেজের বড় অংশ হয়ে রয়েছে, যা একটি বড় বাজেটের বায়োপিক নির্মাণকে জটিল করে তোলে।
২০০৯ সালে মৃত্যুর পরও মাইকেল জ্যাকসনের জনপ্রিয়তা কমেনি; বরং বেড়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার গান এখনো কোটি কোটি মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়। ফলে এই বায়োপিককে ঘিরে প্রত্যাশাও তুঙ্গে।
Advertisement
২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমাটির ঘোষণা আসে। চিত্রনাট্য লিখেছেন জন লোগান, পরিচালনায় অ্যান্টনি ফুকোয়া। অভিনয়ে রয়েছেন কোলম্যান ডোমিঙ্গো, মাইলস টেলার ও নিয়া লং। আর সবচেয়ে আলোচিত বিষয়-মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করছেন তারই ভাতিজা জাফর জ্যাকসন।
এত বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও কেন এখনো এত জনপ্রিয় মাইকেল জ্যাকসন-এই প্রশ্নও সামনে এসেছে। ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’র সমালোচক লুডোভিক হান্টার-টিলনি মনে করেন, তার বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে অপরাধ প্রমাণ হয়নি। পাশাপাশি অনেকে তাকে ‘ভিকটিম’ হিসেবেও দেখেন। তবে সবচেয়ে বড় কারণ-তার অসাধারণ শিল্পীসত্তা।
অন্যদিকে ২০১৯ সালের তথ্যচিত্র লিভিং নেভারল্যান্ড নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। এতে দুই ব্যক্তি অভিযোগ করেন, শৈশবে তারা জ্যাকসনের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলেন। নির্মাতা ড্যান রিড দাবি করেন, বায়োপিকের প্রাথমিক স্ক্রিপ্টে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছিল। যদিও জ্যাকসনের এস্টেট এসব অভিযোগ নাকচ করেছে।
প্রথমদিকে ধারণা ছিল, সিনেমাটিতে জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত দিকগুলোও দেখানো হবে। বিশেষ করে জর্ডান চ্যান্ডলার-সংক্রান্ত ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারত।
তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে নির্মাতারা। বর্তমান সংস্করণে দেখানো হয়েছে—শৈশব, ‘দ্য জ্যাকসন ফাইভ’র সঙ্গে পথচলা, বাবার কঠোর নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসা, একক শিল্পী হিসেবে সুপারস্টার হয়ে ওঠা এবং ১৯৮৮ সালের ‘ব্যাড’ ট্যুর পর্যন্ত যাত্রা। অর্থাৎ বিতর্কিত অধ্যায়গুলো রাখা হয়নি।
‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’র তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের সমঝোতার একটি শর্ত ছিল- জর্ডান চ্যান্ডলারকে কোনো চলচ্চিত্রে দেখানো যাবে না। ফলে নতুন করে দৃশ্য লেখা, অতিরিক্ত শুটিং এবং মুক্তির সময় পিছিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে নির্মাতাদের। জানা গেছে, পুনঃশুটিংয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১০-১৫ মিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদন বলছে, বাদ পড়া অংশগুলো ভবিষ্যতে সিক্যুয়েলে ব্যবহার করা হতে পারে। স্টুডিও লায়নসগেট এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে- এটি আসলে ‘পার্ট ওয়ান’, যেখানে একজন কিংবদন্তির উত্থান তুলে ধরা হবে।
আরও পড়ুন:সুখবর দিলেন শাহরুখের ‘জওয়ান’ সিনেমার নির্মাতা অ্যাটলি সব গুঞ্জন ছাপিয়ে ১৯ বছর, অটুট অভিষেক-ঐশ্বরিয়ার বন্ধন
এখন দেখার বিষয়-বিতর্ক এড়িয়ে তৈরি এই বায়োপিক দর্শক-সমালোচকদের কতটা সন্তুষ্ট করতে পারে। ‘মাইকেল’ কি শুধু কিংবদন্তির উত্থানই দেখাবে, নাকি ভবিষ্যতে তার জীবনের অন্ধকার অধ্যায়ও সামনে আসবে-সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এমএমএফ