লাইফস্টাইল

কর্মস্থলে দীর্ঘসময় এসিতে থাকলে চুল ও ত্বকের যেসব ক্ষতি হয়

সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় আয়নায় নিজেকে দেখলে বেশ ফ্রেশই লাগে। চেহারা থাকে উজ্জ্বল, একটা সতেজ ভাব। কিন্তু অফিসে কয়েক ঘণ্টা কাটানোর পর হঠাৎই মনে হয় সবকিছু বদলে গেছে। ত্বক শুকনো, চুল তেলতেলে, মুখে ক্লান্তির ছাপ, এমন অভিজ্ঞতা এখন অনেকেরই।

Advertisement

এই বিষয়টি নিয়েই সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় এসেছে অফিস এয়ার থিওরি। এই ধারণা অনুযায়ী, অফিসের ভেতরের পরিবেশই নাকি আমাদের ত্বক ও চুলের এই পরিবর্তনের জন্য দায়ী। যদিও এটি কোনো প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব নয়, তবুও এর পেছনে কিছু বাস্তব কারণ রয়েছে, যা আমাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলে যায়।

এসির বাতাসে ত্বক কেন শুষ্ক হয়ে যায়

অধিকাংশ অফিসেই সারাদিন এয়ার কন্ডিশন চালু থাকে। এসির ঠান্ডা বাতাস ঘরের আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। ফলে ত্বকের ভেতরের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা দ্রুত শুকিয়ে যায়। এতে ত্বক রুক্ষ, টানটান বা শুষ্ক লাগতে শুরু করে। মজার বিষয় হলো, ত্বক যখন অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে, তখন শরীর নিজে থেকেই তা সামাল দিতে বেশি তেল উৎপাদন শুরু করে। ফলে একদিকে ত্বক শুকনো মনে হয়, আবার অন্যদিকে মুখে তেলতেলে ভাবও দেখা যায়। এই দ্বৈত সমস্যাই অনেককে বিভ্রান্ত করে।

বদ্ধ পরিবেশের প্রভাব

অফিসের ভেতরে বেশিরভাগ সময় জানালা-দরজা বন্ধ থাকে এবং বাইরের সতেজ বাতাস প্রবেশ করার সুযোগ কম থাকে। এতে ঘরের ভেতরে ধুলা, দূষণ বা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী কণাগুলো জমে থাকতে পারে।এই ধরনের পরিবেশ ত্বকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ত্বক নিস্তেজ দেখাতে শুরু করে, চোখে জ্বালাপোড়া হতে পারে এবং অনেক সময় মুখে অস্বস্তিও তৈরি হয়। ফলে দিনের শেষে নিজের লুক আগের মতো ফ্রেশ মনে হয় না।

Advertisement

দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে থাকার প্রভাব

অফিসে কাজ মানেই দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সামনে বসে থাকা। এই অভ্যাসও চেহারায় ক্লান্তির ছাপ ফেলে। স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলে চোখে চাপ পড়ে, চোখ শুকিয়ে যায় এবং মুখে এক ধরনের ক্লান্ত ভাব চলে আসে। এছাড়া একটানা বসে থাকার কারণে শরীরের রক্ত সঞ্চালনও কিছুটা কমে যায়, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেয়।

  মানসিক চাপ ও ক্লান্তির প্রভাব

অফিসের কাজের চাপ, ডেডলাইন বা মানসিক স্ট্রেসও ত্বক ও চুলের অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। স্ট্রেসের কারণে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে, যা ত্বকের তেল উৎপাদন বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে মুখে ব্রণ, তেলতেলে ভাব বা নিস্তেজতা দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন: নারীরা কখন সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন? কাজের টেনশনই কি কাজ আরও পিছিয়ে দিচ্ছে?  যেভাবে সারাদিন ফ্রেশ থাকবেন

এই সমস্যাগুলো পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

১. দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করা খুব জরুরি। এটি শরীরকে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে এবং ত্বকের শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে।

Advertisement

২. ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। বিশেষ করে অফিসে যাওয়ার আগে এবং প্রয়োজনে দিনের মাঝেও হালকা করে ব্যবহার করলে ত্বক আর্দ্র থাকে।

৩. কাজের ফাঁকে ফাঁকে একটু বিরতি নেওয়া দরকার। কয়েক মিনিট হাঁটা, জানালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বা বাইরে গিয়ে ফ্রেশ এয়ার নেওয়া শরীর ও মন দুইটাই সতেজ রাখে। চুলের ক্ষেত্রে খুব বেশি হাত না দেওয়া ভালো। বারবার চুলে হাত দিলে তা দ্রুত তেলতেলে হয়ে যায়। প্রয়োজনে হালকা ড্রাই শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।

অফিস এয়ার থিওরি হয়তো পুরোপুরি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়, তবে এর পেছনে বাস্তব কিছু কারণ অবশ্যই আছে। অফিসের পরিবেশ, এসির বাতাস, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকলে ত্বক ও চুলের এই পরিবর্তন ঘটে। তবে সামান্য সচেতনতা আর কিছু সহজ যত্ন নিলেই এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই ব্যস্ত অফিস লাইফের মাঝেও নিজের যত্ন নিতে ভুলবেন না।

সূত্র: ডেইলি মেইল, নিউ ইয়র্ক পোস্ট

এসএকেওয়াই