নাটোরের বড়াইগ্রামে গানের অনুশীলনের কথা বলে ডেকে নিয়ে এক ছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মিঠুন মোল্লা (২৬) নামের এক সংগীত শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
Advertisement
বুধবার (২২ এপ্রিল) দিনগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার নগর ইউনিয়নের মশিন্দা বাজারস্থ ‘সুরের সাথী সঙ্গীত ক্লাবে’ এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্তের বড় ভাই ও এক নারী সংগীত শিল্পীকে আটক করেছে পুলিশ।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে গানের অনুষ্ঠানের রিহার্সাল করার কথা বলে বনপাড়া পৌর শহরের দিয়ারপাড়া এলাকার ওই ছাত্রীকে সংগীত ক্লাবে ডেকে আনেন শিক্ষক মিঠুন মোল্লা। সেখানে মিঠুনের বড় ভাই খায়রুল মোল্লা (৪৫) ও নারী শিল্পী মেঘলা আক্তার (২৩) উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে খায়রুল ও মেঘলা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে গানের অনুশীলন শুরু করেন। এ সময় শিক্ষক মিঠুন ওই ছাত্রীকে পেছনের ফ্লোরে টেনে-হেঁচড়ে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। ভুক্তভোগী ছাত্রী বাঁচানোর জন্য খায়রুল ও মেঘলার কাছে বারবার আকুতি জানালেও তারা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সহযোগিতা করেন এবং বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করেন। পরে ঘটনাটি কাউকে জানালে ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ছাত্রীকে বিদায় করা হয়।
Advertisement
ক্লাব থেকে বের হওয়ার পর ওই ছাত্রীকে অসুস্থ অবস্থায় দেখে স্থানীয়রা জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সব খুলে বলে। উত্তেজিত জনতা তাৎক্ষণিক তিন অভিযুক্তকে আটক করলেও পরে তারা কৌশলে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সকালে ছাত্রীর অভিভাবক অভিযোগ করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সহযোগী খায়রুল ও মেঘলাকে আটক করে। তবে মূল অভিযুক্ত মিঠুন মোল্লা এখনও পলাতক।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আটককৃত দুই সহযোগীকে বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মূল আসামি মিঠুন মোল্লাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রেজাউল করিম রেজা/কেএইচকে/জেআইএম
Advertisement