আন্তর্জাতিক

যেভাবে বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠলেন আসিম মুনির

দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির আন্তর্জাতিক অঙ্গণে গুরুত্বপূর্ণ এক শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ—এই দুই ঘটনাপ্রবাহ তার উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে।

Advertisement

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়, চলমান সংকট নিরসনে পাকিস্তান একটি মধ্যস্থতাকারী শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

এর আগে, পাকিস্তানের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ইসলামাবাদে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও তাৎক্ষণিক সমাধান না এলেও, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আসিম মুনিরের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

২০২৫ সালে কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চারদিনব্যাপী সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘাতে পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বে দৃঢ় অবস্থানের কারণে মুনির দ্রুত গুরুত্ব পান এবং পরবর্তীতে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত হন।

Advertisement

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতই মুনিরের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে দেয়। একইসঙ্গে তিনি পাকিস্তানের প্রথম চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস হিসেবে দায়িত্ব পান, যা তার ক্ষমতাকে আরও সুসংহত করে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কও এই সময়ে নতুন মাত্রা পায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প মুনিরকে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং হোয়াইট হাউজে তাকে আমন্ত্রণ জানান। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক সম্পর্কের এক নতুন দৃষ্টান্ত।

পাকিস্তান একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রেখেছে। এই ভারসাম্য রক্ষা করে দেশটি আঞ্চলিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে পাকিস্তান এখন অন্যতম কার্যকর সেতুবন্ধন।

Advertisement

তবে দেশের ভেতরে মুনিরের ক্ষমতা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সমালোচনাও রয়েছে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তার ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত করা হয়েছে, যা অনেক বিশ্লেষকের মতে গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, সাম্প্রতিক দুইটি বড় সংঘাত—ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ—পাকিস্তানের আসিম মুনিরকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। তবে তার এই উত্থান ভবিষ্যতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমএসএম