আন্তর্জাতিক

সংঘাত সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না ইউক্রেন-ইউরোপ: রাশিয়া

চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন সংঘাতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের জন্য কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না কিয়েভ কিংবা ইউরোপীয় দেশগুলো। এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত নিরসনের জন্য ইউক্রেন-ইইউ’র পক্ষ থেকে কোনো বাস্তবিক পদক্ষেপের অগ্রসর দেখতে পাচ্ছে না মস্কো।

Advertisement

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত রোডিওন মিরোশনিকের দেওয়া বক্তব্যের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস।

এক ব্রিফিংয়ে মিরোশনিকের বলেন, রাশিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে ‘সুযোগের জানালা’ বলতে এমন বাস্তব পন্থা ও পরিস্থিতিকে বোঝায় যার মাধ্যমে সংঘাতটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে শেষ করা যেতে পারে। এখন পর্যন্ত আমরা ইউক্রেন বা ইউরোপ-কোনো পক্ষ থেকেই এমন কোনো পদক্ষেপ দেখছি না।

একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয়রা ‘একবারও শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোনো প্রস্তাব দেয়নি। এই পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ ছাড়া অন্য কোনো উপায় আমরা দেখছি না। সংঘাতের সম্ভাব্য সমাপ্তির জন্য যতক্ষণ না তারা আলোচনায় বসে ততক্ষ শুধু সামরিক চাপ অব্যাহত থাকবে। এর উদ্দেশ্য- রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যমান হুমকি দূর করার বিষয়ে ইউক্রেনের সচেতন আগ্রহ তৈরি হয়।’

Advertisement

রাষ্ট্রদূত মিরোশনিকের মতে, ‘বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে উদ্যোগ রাশিয়ার হাতেই রয়েছে। আর রাশিয়া তার বেসামরিক জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে এবং কিয়েভকে যুদ্ধাপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে।’

এই প্রেস ব্রিফিংয়ে ইউক্রেনকে পশ্চিমাদের (ইইউ) অর্থায়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়তে থাকায় ইউরোপীয় সমর্থকদের পক্ষে কিয়েভ সরকারকে টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।’

তার মতে, ইউরোপীয়রা কিয়েভকে সহায়তা ও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ‘বিপুল অর্থের’ ঘোষণা দিলেও, তারা আদৌ সেই অর্থ দিতে পারবে কি না-তা অনিশ্চিত। পাশাপাশি তাদের অগ্রাধিকার কী হবে-নিজেদের দেশকে সহায়তা করা? জ্বালানির উচ্চ মূল্য পরিশোধ করা? নাকি কিয়েভ সরকারকে অর্থায়ন চালিয়ে যাওয়া?

মিরোশনিক আরও বলেন, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ‘এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন পক্ষ কিয়েভ সরকারকে সরাসরি আর্থিক বা সামরিক সহায়তা দেয়নি। বর্তমানে এই সমস্ত ব্যয় ইউরোপীয় সমর্থকরাই বহন করছে।’

Advertisement

তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ‘ইউক্রেন ও ইউরোপের অবস্থানকে আরও দুর্বল করছে, তবে এখনো পর্যন্ত এটি সামরিক কার্যক্রমের গতিপথে মৌলিক কোনো পরিবর্তন আনেনি।’

প্রসঙ্গত, পূর্ণমাত্রার রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয় ২০২২ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি। তবে এই সংঘাতের প্রাথমিক সূচনা হয়েছিল হয়েছিল ২০১৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ক্রিমিয়া দখলের মাধ্যমে। পরবর্তীতে গণভোটের মাধ্যমে ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

কেএম