প্রথম দফার নির্বাচন শেষ। এবার শেষ দফার নির্বাচন। আগামী ২৯ এপ্রিল শেষ দফায় ১৪২ আসনে ভোট নেওয়া হবে। শেষ দফার নির্বাচনে সবার নজরে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাদের নির্বাচনি কেন্দ্র ভবানীপুর।
Advertisement
আর হাইভোল্টেজ ভবানীপুরের নির্বাচনে দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির পারদ। আগামী ২৭ এপ্রিল শেষ দফার ভোটের প্রচারের শেষ দিন। তাই শেষ দফা ভোটের প্রচারে জোরকদমে নেমে পড়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে এবং বিরোধীদল বিজেপি।
শেষ দফা নির্বাচনের প্রচারে কলকাতার ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জীর প্রচার নিয়ে উত্তেজনা ছড়ালো। মমতা ব্যানার্জীর সভা চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের সভা মঞ্চের দিকে লক্ষ্য করে তারস্বরে মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। শেষ পর্যন্ত সভায় বক্তব্য মাঝপথে বন্ধ করে দেন মমতা।
জানা গেছে, গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে কলকাতার ভবানীপুরে ৭০ নম্বরে ওয়ার্ডে সভা করছিলেন পশ্চিমের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। অভিযোগ উঠেছে সভার দিকে বিজেপির জোরে মাইক বাজায়। মাঝপথে বক্তব্য বন্ধ করে দেন। এরপরেই মমতা ব্যানার্জী মঞ্চে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কর্মকর্তাকে ফোন করে মাইক বাজানোর আওয়াজও শোনান তিনি।
Advertisement
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পুলিশকে আবেদন জানিয়ে বলা হয়, ভবানীপুরের থানার কর্মকর্তারা বিষয়টা একটু দেখুন। বারবার বলা সত্ত্বেও মাইক্রোফোন আমাদের মঞ্চের দিকে করে রেখেছে। আমরা কিন্তু এই অসভ্যতামি করি না। ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ড এই অসভ্যতামি মানবে না। বাংলার এই অসভ্যতা চলবেনা।
এরপরই মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে মমতা বলেন, কেন করবে এটা? নির্বাচনের কিছু নিয়ম রয়েছে। ওরাও যেদিন সভা করবে, তোমরাও মাইক লাগিয়ে দেবে। মাইক খুলতে এলে থানায় এফআইআর করবে। এটা পক্ষপাতিত্ব। এভাবে মিটিং করা সম্ভব? আমি সব ধরনের অনুমতি নিয়েছি। তারা জোরপূর্বক যা করছে সেটা ভুল।
মমতা আরও বলেন, আমি একমাস বাংলায় ২০০ আসনের প্রচার করেছি। এখানে ছিলাম না। অভিষেকও প্রায় ১০০ আসনে প্রচারণা চালিয়েছে। তারা যদি এমন করে, আমাকে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। আমি সেটা করব। পায়ে পা লাগিয়ে ঝগড়া করছে। সামনে চিৎকার করছে, যাতে আমি মিটিং করতে না পারি। মা-ভাই-বোনেরা আমায় ক্ষমা করে দেবেন।
আমি মিটিংটা করতে পারবোনা, রেলি করে দেব। এই অসভ্যতা আমি করতে পারবো না। আমায় ক্ষমা করবেন। আমার ইভিএমের বোতাম নম্বর-২। এর প্রতিবাদে ভোটটা আমায় দিতে হবে। আমায় মিটিং পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না।
Advertisement
সব মিলিয়ে ভবানীপুরের নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। হাইভোল্টেজ এই আসনের দিকে পুরো দেশবাসীর নজর থাকবে। এবার দেখার বিষয় ২০২১ সালের নন্দীগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে কি হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।
ডিডি/টিটিএন