আইন-আদালত

লিখিত রায় প্রকাশের পর উচ্চ আদালতে আপিল: বাদীপক্ষের আইনজীবী

বিয়ে-সংক্রান্ত মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দেওয়ার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান।

Advertisement

তার দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন করেননি। লিখিত রায় প্রকাশের পর উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এই আলোচিত মামলায় নাসির ও তামিমাকে খালাস দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন ইশরাত হাসান।

তিনি বলেন, ২০২১ সালে মামলাটি তার কাছে আনার সময় বাদী রাকিব হাসান আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে অর্থ ও প্রভাবের অভাবে রাকিব বিচার পাবেন না। তখন তিনি আইনজীবী হিসেবে রাকিবকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে ঘটনা সত্য হলে আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব।

Advertisement

আরও পড়ুন বিয়ে বিতর্ক: খালাস পেলেন নাসির-তামিমা

ইশরাত হাসান বলেন, আদালত প্রথমেই মামলাটি আমলে নেননি, বরং তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে পাঠিয়েছিলেন। দীর্ঘ ছয় মাস তদন্ত শেষে পিবিআই অভিযোগের সত্যতা পেয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তার দাবি, তদন্তে উঠে এসেছে যে তামিমা বৈধভাবে বিয়ে বিচ্ছেদ সম্পন্ন না করেই নতুন বিয়ে করেছেন এবং বিচ্ছেদসংক্রান্ত কিছু নথি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ডাক বিভাগও সংশ্লিষ্ট কিছু ডাক রসিদকে প্রকৃত ডাক বিভাগের রসিদ নয় বলে মতামত দিয়েছে।

নাসিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে ইশরাত হাসান বলেন, ‘নাসির হোসেন নিজেই বাদীকে ফোন করে সবকিছু জেনেশুনে বিয়ে করার কথা বলেছেন। তামিমাও জেরার সময় কিছু বিষয় স্বীকার করেছেন। এসব সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

এই আইনজীবী জানান, আদালতের রায়ে এসব সাক্ষ্য-প্রমাণের বিষয়ে পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

Advertisement

আরও পড়ুন নাসির-তামিমা খালাস পাওয়ায় হতাশ রাকিব

তিনি আরও বলেন, ‘তিনদিন আগে আসামিপক্ষের আইনজীবী গণমাধ্যমে বলেছিলেন যে দুই আসামিই খালাস পাবেন। এরপর থেকেই আমাদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, তারা আগে থেকেই এমন বিষয়ে কীভাবে নিশ্চিত ছিলেন। এ প্রশ্ন শুধু আমার নয়, জনমনেরও প্রশ্ন হতে পারে।’

ইশরাত হাসান দাবি করেন, আদালত উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের বিষয়ে যথাযথ বিচারিক বিশ্লেষণ না করেই এ রায় দিয়েছেন। এ রায়ের ফলে বাদী ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা লিখিত রায়ের অপেক্ষায় আছি। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পাওয়ার পর এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।’

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বুধবার নাসির ও তামিমাকে খালাস দেন। মামলাটি করেছিলেন রাকিব, যিনি দাবি করেছিলেন যে তার সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেন। তবে শুরু থেকেই নাসির ও তামিমা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।

এমডিএএ/একিউএফ