খুলশি থানায় নেওয়ার পর নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও সম্মানজনক আচরণ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসান। তিনি বলেন, পরিচয় দেওয়ার পর খুলশি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে ‘চোখ নিচে নামিয়ে কথা বলতে’ বলেছিলেন।
Advertisement
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রামে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আগের রাতের ঘটনার বর্ণনা দেন নাঈম হাসান।
নাঈম বলেন, কোনো তথ্য বা সন্দেহ থাকলে পুলিশ তাকে থামিয়ে ব্যাগ তল্লাশি করতে পারত। তবে ঘটনাস্থলে তা করা হয়নি। তার ভাষ্য, তিনি সিএনজি অটোরিকশা থেকে নেমে আবার উঠতে গেলে এক পুলিশ সদস্য ভেতরে ঢুকে তার গলা চেপে ধরেন।
ক্রিকেটার নাঈম বলেন, আমি খুব ভয় পেয়ে যাই। তারা আমার ব্যাগও চেক করেনি, কিছুই চেক করেনি। সবকিছু থানায় নিয়ে যায়।
Advertisement
থানায় নেওয়ার পর নিজের পরিচয় দেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাঈম বলেন, আমি ওসিকে আমার পরিচয় দিয়েছি। পরিচয় দেওয়ার পর উনি আমাকে বললেন, ‘চোখ নিচে নামিয়ে কথা বল’। কিছুক্ষণ পর তার মোবাইলে একটি ফোন আসে। ফোনে কথা বলার পর তিনি আবার আমাকে বললেন, ভাইয়া আপনি বসেন। তখন তার কথার সুর পুরোপুরি বদলে যায়।
ঘটনার সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নাঈম বলেন, আশপাশের মানুষ এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত।
তিনি বলেন, প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন মানুষ সেখানে ছিল। ওদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিতে চাই। তারা না থাকলে ঘটনাটা অন্য রকম হতে পারত। যখন আমাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, আমি তাদের বলেছিলাম আমার সঙ্গে আসতে। তারা আমার সঙ্গে থানায় গেছে। এজন্য অন্য কিছু করার সুযোগ পায়নি।
ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে রয়েছেন বলেও জানান এই ক্রিকেটার।
Advertisement
নাঈম বলেন, আমি এখন একটু একা থাকতে চাই। শুক্রবার থেকে সারারাত ঘুমাইনি। ঘটনাটা অনেকবার বলতে হয়েছে। মানসিকভাবে আমি খুবই বিপর্যস্ত।
মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী সরকার যে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে পারে, আমি সেটাই চাই। ভবিষ্যতে আর কোনো মানুষের সঙ্গে যেন এমন ঘটনা না ঘটে।
নাঈমের দাবি, রাতভর থানায় থাকার পর পুলিশের উপস্থিতিতেই তার ব্যাগের প্রতিটি জিনিসপত্র তল্লাশি করা হয়। গ্লাভস, ব্যাট, হেলমেট ও পোশাকসহ সব সামগ্রী পরীক্ষা করা হলেও কোনো ধরনের অবৈধ বস্তু পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই অফস্পিনার এখন পর্যন্ত ১৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। সেই ম্যাচগুলোতে তিনি ৪৮টি উইকেট নিয়েছেন। এক ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে চারবার।
এমআরএএইচ/এনএইচআর