ভালোবাসার জন্য বিয়ে করা উচিত-এই প্রচলিত ধারণাকে অনেকেই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য হিসেবে দেখে থাকেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কে আইনজীবী হিসেবে কাজ করা এক ডিভোর্স অ্যাটর্নি লেনা নগুয়েন এই মতের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তার মতে, বিয়ে শুধু আবেগের সম্পর্ক নয়, বরং এটি একটি বাস্তবিক ও আর্থিক চুক্তিও।
Advertisement
তিনি একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে বলেন, ‘ভালোবাসার জন্য নয়, আর্থিক স্থিতিশীলতা বিবেচনা করে বিয়ে করা উচিত।’ তার এই মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করলেও তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিন আদালতে বিচ্ছেদ, পারিবারিক ভাঙন এবং আর্থিক সংকটের মামলা দেখতে গিয়ে তিনি বাস্তব জীবনের কঠিন দিকগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন।
আরও পড়ুন প্রথম ইমপ্রেশনে সবচেয়ে বেশি নজর যায় যেসব বিষয়তার ব্যাখ্যায়, মানুষ সাধারণত বিয়েকে আবেগনির্ভর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখে এবং অর্থনৈতিক দিকটি উপেক্ষা করে। সিনেমা বা রোমান্টিক গল্পে এটি সুন্দর শোনালেও বাস্তবে আর্থিক চাপ অনেক সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, ভালোবাসা গুরুত্বপূর্ণ হলেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া সংসার টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
সন্তানদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, শিশুরা তাদের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করে। তারা দেখে কারা ভালো শিক্ষা, ভ্রমণ বা অতিরিক্ত সুযোগ পাচ্ছে এবং কারা পাচ্ছে না। তাই শুধু ভালোবাসা থাকলেই সন্তানের সব চাহিদা বা স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব হয় না; এর জন্য আর্থিক সক্ষমতাও প্রয়োজন।
Advertisement
তার মতে, সন্তানদের স্বপ্ন পূরণে শুধু আবেগ যথেষ্ট নয়, বাস্তব জীবনে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বড় ভূমিকা রাখে। ভালোবাসা থাকলেও যদি প্রয়োজনীয় সম্পদ না থাকে, তাহলে অনেক সম্ভাবনাই সীমিত হয়ে যায়।
তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, তার বক্তব্যের অর্থ এই নয় যে শুধুমাত্র টাকার জন্য বিয়ে করা উচিত। বরং জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার সময় আর্থিক অবস্থার সামঞ্জস্যকেও গুরুত্ব দেওয়া দরকার। তার ভাষায়, শুধু ভালোবাসার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া সবসময় বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে।
আরও পড়ুন কাজিনকে বিয়ে করার আগে জানুন এই সত্যসবশেষে তিনি বলেন, টাকা সব সুখ কিনে দিতে না পারলেও এটি জীবনকে অনেক বেশি সহজ ও স্থিতিশীল করে তোলে। তাই বিয়ের সিদ্ধান্তে আবেগের পাশাপাশি বাস্তবতা ও আর্থিক দিক বিবেচনা করা জরুরি।
জেএস/
Advertisement