খেলাধুলা

‘শুনেছি আমার বোলিং নাকি ভালো না’- বাংলাদেশকে খোঁচা রেনশর

সেই ওয়ানডে সিরিজ থেকে ম্যাট রেনশ বোলিংয়ে বাংলাদেশি ব্যাটারদের আটকে পড়া শুরু। এক ম্যাচ হাতে রেখে হারা টি-টোয়েন্টি সিরিজেও এক চিত্র বজায় আছে। ১৪ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে বোলিং করেছেন ৬ ইনিংসে, তার ৩টিই কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ সিরিজে।

Advertisement

আর ৭ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজেই প্রথমবার বোলিং করলেন তিনি। আর ওয়ানডে সিরিজে প্রথমবার বোলিং করেছেন চলতি মাসের প্রথম দিকে পাকিস্তান সিরিজে। এখন পর্যন্ত এই সফরে তিন ওয়ানডে আর দুটি টি-টোয়েন্টিতে ৮ উইকেট শিকার করেছেন রেনশ। শুক্রবার বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিতের পর সংবাদ সম্মেলনে নিজের বোলিং প্রশ্নে বাংলাদেশকে একটু খোঁচাও দিয়েছেন।

টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২ ম্যাচে নিয়েছেন ৩ উইকেট। তার বিপক্ষেই বাংলাদেশি ব্যাটাররা বারবার উইকেট দিয়ে আসছেন। মূলত বাঁ-হাতি ব্যাটার নিজের বোলিং নিয়েই বিষ্মিত কিনা এমন প্রশ্নে বাংলাদেশকে খোচা দিয়েছেন রেনশ।

তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, তবে শুনেছি আমার বোলিং নাকি খুব একটা ভালো না! বাংলাদেশের একজন খেলোয়াড়ের একটা মন্তব্য দেখেছিলাম। আমার কাছে বোলিং এমন একটা বিষয়, যেটা আমি ভীষণ উপভোগ করি। তবে আমি এটাকে একজন ব্যাটারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি- প্রতিটি বলে ব্যাটার কী করতে চাইছে, সেটা বোঝার চেষ্টা করি। আমি জানি, প্রতিটি বল ঠিক যেভাবে চাই সেভাবে করতে পারব না। তাই ফিল্ডিং সাজিয়ে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী যতটা সম্ভব মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি, যাতে দলের জন্য অবদান রাখতে পারি। সৌভাগ্যবশত এই সফরে কয়েকটি উইকেট পেয়েছি, এটা অবশ্যই ভালো লাগছে।’

Advertisement

ব্যাট হাতে এই সিরিজ খুব একটা ভালো কাটেনি ম্যাট রেনশর। ওয়ানডেতে তিন ম্যাচ মিলিয়ে করেছেন মাত্র ২ রান, আছে দুটো ডাক। টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও তার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১৮ রান। তবে শুক্রবার রীতিমতো ব্যাট হাতে তান্ডব চালিয়েছেন। ৫২ বলে করেছেন অপরাজিত ৮৯ রান। এর সঙ্গে বল হাতে নিয়েছেন ৮ উইকেট।

এই সফর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ঘুড়িয়ে দিলো কিনা প্রশ্নে রেনশর উত্তর, ‘হ্যাঁ, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা বিভিন্ন ফরম্যাটে আসা-যাওয়ার কারণে একটু অদ্ভুতই ছিল। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের প্রতি স্বস্তি ও বিশ্বাস খুঁজে পাওয়া। বোলিং আমি সব সময়ই করেছি। ব্যাটিং না করলে তো একটু বোলিং করতেই হয়!’

তবে আজকের ইনিংস তাকে স্বস্তি দিচ্ছে, ‘তবে ব্যাটিংয়ের দিক থেকে আজকের ইনিংসটা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। টানা কয়েকটি কম রানের ইনিংসের পর নিজেকে মনে করিয়ে দিয়েছি কেন আমি খেলতে চাই এবং কীভাবে খেলতে চাই। আগেও বলেছি, আমি হয়তো ২০ রান করেও আউট হতে পারতাম। কিন্তু যেভাবে ইনিংস শুরু করেছি, সেটা আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা শুরু ছিল। এটা নিয়ে আমি খুবই রোমাঞ্চিত ছিলাম। এরপর সেই শুরুটা বড় ইনিংসে রূপ দিতে পেরেছি এবং দলকে ভালো একটি জয়ের ভিত গড়ে দিতে পেরেছি।’

এই ইনিংসে রেনশ বুঝতে পেরেছেন টি-টোয়েন্টি খেলার সামর্থ্য আছে, ‘এই ফরম্যাটে এটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আপনি যখন বারবার দল ও ফরম্যাটের ভেতরে-বাইরে থাকেন, তখন নিজের সামর্থ্য নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়- আপনি আদৌ যথেষ্ট ভালো কি না। তাই আজকের ইনিংস আমাকে উপলব্ধি করিয়েছে যে, এই ফরম্যাটে খেলার মতো সামর্থ্য আমার আছে।’

Advertisement

এসকেডি/আইএইচএস