জুলাই অভুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণের করার কথা রয়েছে আজ।
Advertisement
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এদিন এদিন মামলায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
এর আগে গত ১৭ জুন মামলায় প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে আজ২৩ জুন দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল।
Advertisement
রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৭ জুন) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে এই দিন ঠিক করেন।
আদালতে ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। প্রসিকিউটর আব্দুস সাত্তার পালোয়ান আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ৩০ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারিক প্যানেলে এই আদেশ দেন।
আরও পড়ুন জিয়াউলের বডিগার্ড / ‘স্যার ৮-১০ জন বিডিআর সদস্যকে হত্যা করেন’এরও আগে ২ মার্চ চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম অভিযোগ গঠনের শুনানি করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে মেনন ও কামরুল নানা উসকানি দেন। তারা আওয়ামী লীগ সরকার ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষপদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনা দেন। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে রাজধানীর বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। শুনানিতে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আবেদন করেন তিনি।
Advertisement
তবে অভিযোগ থেকে আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। ওইদিন শুনানি শেষে আদেশের জন্য রাখেন আদালত। গত ৩ ফেব্রুয়ারি মেনন ও কামরুলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত তাদের হাজির করার নির্দেশ দেন।
রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে ট্রাইব্যুনালে। তারা আওয়ামী লীগ সরকার ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ‘মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনাসহ ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র’ করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রসিকিউশন। সেসময় ২৩ জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গত ৩ ফেব্রুয়ারি আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই সরকারের বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং পরে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা মেননকে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট গ্রেফতার করে পুলিশ। আর সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর থেকেই তারা কারাগারে রয়েছেন।
এফএইচ/ইএ