চট্টগ্রাম নগরীর খেলার মাঠ, উদ্যান, জলাধার ও উন্মুক্ত স্থানগুলোর আধুনিকায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের সুস্থ বিনোদন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সুযোগ বাড়াতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
Advertisement
বুধবার (২৪ জুন) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রায় ৩০১ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) উপস্থাপন করা হয়। একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাবটি উপস্থাপন করলে তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা।
সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা বিভিন্ন মতামত দেন। পরে প্রাপ্ত পরামর্শের ভিত্তিতে প্রকল্প প্রস্তাবটি সংশোধন করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় মেয়র শাহাদাত বলেন, দ্রুত নগরায়ণের ফলে চট্টগ্রামে খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, জলাধার ও সবুজ এলাকার পরিমাণ কমে যাচ্ছে। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, তরুণদের ক্রীড়া চর্চা, প্রবীণদের হাঁটাচলা এবং নাগরিকদের অবসর বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
Advertisement
তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে শুধু অবকাঠামোগতভাবে নয়, পরিবেশগত ও সামাজিকভাবেও একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও মানবিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্যেই গুরুত্বপূর্ণ মাঠ, পার্ক, জলাধার ও উন্মুক্ত স্থানসমূহকে আধুনিক নাগরিক সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মেয়র জানান, প্রস্তাবিত উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় মাঠগুলোতে আধুনিক ক্রীড়া সুবিধা, হাঁটার পথ, সাইকেল ট্র্যাক, শিশুদের বিনোদন জোন, নারী ও পরিবারবান্ধব উন্মুক্ত স্থান, পাবলিক টয়লেট, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি জলাধারগুলোকে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি ধারণ ও নগর সৌন্দর্য বৃদ্ধির উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ নগর গড়ে তুলতে উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ ও উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে ১১টি মাঠ, দুটি জলাধার, তিনটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং তিনটি আরবান সড়ক উন্নয়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চাক্তাই স্কুল মাঠ, ফিরোজ শাহ ঈদগাহ মাঠ, শহীদ শাহজাহান মাঠ, বাকলিয়া স্টেডিয়াম, প্যারেড মাঠ, বালুর মাঠসহ বিভিন্ন খেলার মাঠ উন্নয়নের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া বলুয়ার দিঘী ও মুন্সী বাড়ি পুকুর উন্নয়ন এবং শহীদ ওয়াসিম আকরাম পার্ক, বাটালী পাহাড় ও আউটার স্টেডিয়াম উন্নয়নের প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়।
Advertisement
মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটিতে পরিণত করার যে অঙ্গীকার আমরা করেছি, এই প্রকল্প তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীর জীবনমান উন্নত হবে এবং চট্টগ্রাম আরও আকর্ষণীয় ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে।
এমআরএএইচ/এমআইএইচএস