চাঁদপুরে একটি মাদরাসার নিজস্ব জায়গায় নির্মিত সীমানা প্রাচীর (বাউন্ডারি ওয়াল) ভেঙে ফেলায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার ৯নং বালিয়া ইউনিয়নের বালিয়া বাজার সংলগ্ন কাজিরবাজার দারুচ্ছুন্নাত নেছারীয়া দাখিল মাদরাসার সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলায় প্রতিষ্ঠানটির সামনে মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো পূর্ব নোটিশ ছাড়া ভেঙে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মাদরাসার সুপার মাওলানা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মাদরাসার বাউন্ডারি ওয়াল ও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র আট মাসের মাথায় সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি গোপন মামলার রায়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
Advertisement
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮৫ সালে মরহুম হাজী আব্দুল রশিদ কাজীর দান করা ৪২ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে মাদরাসাটিতে প্রায় ৫৫০ জন শিক্ষার্থী এবং ১৮ জন শিক্ষক নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।’
মাদরাসা সুপার আরও জানান, মামলার বাদি মোস্তফা কারীর বাসা মাদরাসার পাশেই। তিনি ২৩ জুন পূর্ব কোনো নোটিশ ছাড়াই ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ নিয়ে মাদরাসায় উপস্থিত হয়। পরবর্তীতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কোনো কথা না শুনেই বাউন্ডারি প্রাচীর ভেঙে বাদিকে ৬ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ধ্বংস করা মানে শুধু একটি ভবন বা প্রাচীর ভাঙা নয়, শিক্ষার পরিবেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করা। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে জমির দখলকৃত মালিক মোস্তফা কারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
Advertisement
শরীফুল ইসলাম/এএইচ/এএসএম