বিশ্বকাপে অতীতে দুই দলের পয়েন্ট সমান হলে গোল ব্যবধানকে আগে দেখা হতো কে এগিয়ে আছে, তারপর দেখা হতো হেড টু হেডে কে এগিয়ে। তবে এবারের বিশ্বকাপে ফিফা হেড টু হেডকে আগে বেছে নিয়েছে পরে গোল ব্যবধানকে।
Advertisement
এই পরিবর্তন ইতোমধ্যেই প্রভাব ফেলেছে কোন দলগুলো নকআউট পর্বে উঠতে পারবে এবং কখন তারা সেই যোগ্যতা নিশ্চিত করবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপে দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হলে এখন গোল ব্যবধানের আগে মুখোমুখি ম্যাচের ফলাফল বিবেচনা করা হবে।হেড-টু-হেড ইতোমধ্যেই এই বিশ্বকাপে বড় প্রভাব ফেলছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রকাশিত ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, পয়েন্ট সমান হলে হেড-টু-হেড গোল ব্যবধানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাযবে।
Advertisement
সাধারণভাবে, গ্রুপে পয়েন্ট সমান হলে ক্রমানুসারে বিবেচিত হবে:
- মুখোমুখি (হেড-টু-হেড) ফলাফল (যদি দুইয়ের বেশি দল জড়িত থাকে, তবে প্রথমে পয়েন্ট, এরপর গোল ব্যবধান, তারপর গোলসংখ্যা)।
- সামগ্রিক গোল ব্যবধান।
- মোট গোলসংখ্যা।
Advertisement
- কম শাস্তিমূলক (ডিসিপ্লিনারি) পয়েন্ট।
হলুদ কার্ড = ১ পয়েন্ট
পরোক্ষ লাল কার্ড = ৩ পয়েন্ট
সরাসরি লাল কার্ড = ৪ পয়েন্ট
হলুদ কার্ডের পর সরাসরি লাল কার্ড = ৫ পয়েন্ট
- ফিফা র্যাঙ্কিং।
মনে রাখতে হবে, প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল সরাসরি পরবর্তী পর্বে যাবে এবং সেরা আটটি তৃতীয়-স্থানপ্রাপ্ত দলও তাদের সঙ্গে নকআউট পর্বে উঠবে। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হেড-টু-হেড।
আগে এটি গোল ব্যবধান ও গোলসংখ্যার পরে বিবেচিত হতো, কিন্তু এখন এটি সবার আগে। এই পরিবর্তনের কারণেই অনেক দল দ্বিতীয় ম্যাচের পরই নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করতে পেরেছে।
উদাহরণ হিসেবে, মেক্সিকো ইতোমধ্যেই গ্রুপে প্রথম হওয়া নিশ্চিত করেছিল, কারণ তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছিল এবং অন্য কোনো দল ছয় পয়েন্টে পৌঁছাতে পারতো না।
একই ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও। তাদের গোল ব্যবধান অনেক ভালো ছিল ঠিকই, কিন্তু পুরোনো নিয়মে প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে কোনো একটি দল গাণিতিকভাবে তাদের টপকে যেতে পারত।
অর্থাৎ, এই পরিবর্তন ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের গতিপথে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।
ফিফা কেন এই পরিবর্তন আনলো?
ফিফা তাদের ব্যাখ্যায় দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছে:
১. শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীকে সরাসরি হারানো কোনো দুর্বল দলের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয়ের চেয়ে শক্তির ভালো প্রমাণ।
২. দুর্বলতম দলের বিরুদ্ধে বেশি বেশি গোল করার জন্য আর মরিয়া হওয়ার প্রয়োজন নেই, যা ফিফা-এর মতে প্রতিযোগিতার মান বাড়ায়।
৩. সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের মতে, ফিফা মূলত উয়েফা-এর পথ অনুসরণ করেছে। উয়েফা ২৪ বছর আগে একই ধরনের পরিবর্তন এনেছিল। এর ফলে গ্রুপ পর্বে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যকার ম্যাচগুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
৪. এই পদ্ধতি প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয় ইউরো ২০০৪-এ। পরে উয়েফা এটিকে সফল বলে ঘোষণা করে এবং জানায়, এই নিয়মের ফলে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগ ও কনফারেন্স লিগের নতুন ফরম্যাটেও হেড-টু-হেড অন্যতম প্রধান মানদণ্ড হিসেবে রয়ে গেছে। বিশ্বকাপ ধীরে ধীরে গত ২২ বছর ধরে এই ধারণার দিকে এগিয়ে আসছিল।
তবে নতুন ফরম্যাটে, যেখানে তৃতীয়-স্থানপ্রাপ্ত দলগুলোরও পরবর্তী পর্বে ওঠার সুযোগ রয়েছে, সেখানে এই নিয়ম আগের চেয়ে আরও বেশি যৌক্তিক বলে মনে করা হচ্ছে।
মূল লক্ষ্য হলো — যেসব দল সত্যিই শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে নিজেদের প্রমাণ করতে পারে, তাদের নকআউট পর্বে পৌঁছানো নিশ্চিত করা; শুধু দুর্বল দলগুলোর বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া দলগুলোকে নয়।
আরআর/আইএন