১৯৮৬ সালে যদি ভিএআর থাকত, তাহলে ‘হ্যান্ড অব গড’, শতাব্দীর সেরা গোল কিংবা ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়, কোনোটিই ঘটতো না বলে গোল ডটকমকে জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক পিটার শিলটন। মেক্সিকোর মাটিতে সেবারের আসরে আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সিধারী ম্যারাডোনা যেন একাই দলকে বিশ্বকাপ জেতান, যার সবচেয়ে স্মরণীয় পারফরম্যান্স ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
Advertisement
সেই আসরে একের পর এক চমকপ্রদ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ম্যারাডোনা সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজের অবস্থান পাকা করেন এবং বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন।
বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিল তার জাদুকরি এবং কিছুটা বিতর্কিত মুহূর্তগুলো। বিশেষ করে মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ফুটবল ইতিহাসে কিংবদন্তির মর্যাদা পায়।
সেই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যারাডোনা দুটি গোল করেন এবং দুটিই ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়। প্রথম গোলটিতে তিনি মুষ্টিবদ্ধ হাত দিয়ে বলটি শিলটনের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান, কিন্তু ম্যাচ কর্মকর্তারা কোনো অনিয়ম দেখতে না পাওয়ায় গোলটি বৈধ বলে গণ্য হয়।
Advertisement
এরপর দ্বিতীয় গোলে তিনি প্রায় অর্ধেক মাঠ একাই দৌড়ে পাড়ি দেন, একের পর এক ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে গোল করেন। এই গোলই পরে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বা শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে পরিচিতি পায়।
তবে আধুনিক ফুটবলে ব্যবহৃত প্রযুক্তি যদি আশির দশকেই থাকতো, তাহলে এসবই হয়তো ইতিহাস থেকে মুছে যেতো। ভিএআর নিয়ে সমালোচনা থাকলেও এটি অনেক অনিয়ম ধরতে সক্ষম।
ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) থাকলে ইংল্যান্ড কি সেদিন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিত এবং ম্যারাডোনা কি বিশ্বকাপ জিততে পারতেন না, এমন প্রশ্নের জবাবে লিংক্স ফাইন ফ্র্যাগ্রান্সের ‘দ্য অফিসিয়াল মেকআপ’ প্রচারণার অংশ হিসেবে গোল ডটকমকে শিলটন বলেন, ‘তখন আমার মনে হয়েছিল আমরা টুর্নামেন্টটি জিততে পারতাম। সম্ভবত এ কারণেই এত দিন বিষয়টি আমাকে কষ্ট দিয়েছে। ভিএআর থাকলে আমার মনে হয় আর্জেন্টিনার দুটি গোলই বাতিল হয়ে যেত। দ্বিতীয় গোলের আগে গ্লেন হডলকে ভুলভাবে ট্যাকল করা হয়েছিল। ভিএআর থাকলে পুরো ঘটনাই ভিন্ন হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি এটি সবার জন্য সহজ নয়, কিন্তু সেদিন যদি ভিএআর থাকত, তাহলে ভালো হতো। বিষয়টি মেনে নেওয়া কঠিন ছিল, কারণ আমার মনে হয় আমরা বিশ্বকাপ জিততে পারতাম। তখন আমরা ছন্দে ফিরেছিলাম, দলে দারুণ কিছু খেলোয়াড় ছিল। বাকিটা তো ইতিহাস।’
Advertisement
দ্বিতীয় গোলের সময় ম্যারাডোনা চারজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে শিলটনকে পাশ কাটিয়ে বল জালে পাঠান। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ফাউল করে থামাতো, যদিও তাতে হলুদ কার্ড হতো, সেটি কি ভালো সিদ্ধান্ত হতো, এমন প্রশ্নে শিলটন বলেন, ‘এটি দেখার দুটি দিক আছে। আমার মনে হয় ইংল্যান্ডে আমরা সব সময় ন্যায্যভাবে খেলার মানসিকতা নিয়ে বড় হই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি তাকে ফাউল করে থামাতো, যেটা অনেক দলই করে, তাহলে হয়তো ভিন্ন কিছু হতো। অনেক ম্যাচের ভিডিও দেখলে দেখা যায়, অনেক দলই এভাবে খেলোয়াড়কে থামিয়ে দেয়। কিন্তু আমরা সাধারণত তা করি না।’
বর্তমানে ইংল্যান্ড ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলছে। টমাস টুখেলের দল শেষ ৩২-এ উঠেছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো। ১৯৬৬ সালের পর থেকে বড় কোনো শিরোপা না জেতা ইংল্যান্ড এবার সেই ৬০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চায়।
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্তের শিকার হওয়া শিলটন অবশেষে সেই অধ্যায়ের ইতি টেনেছেন। লিংক্স ফাইন ফ্র্যাগ্রান্সের উদ্যোগে আয়োজিত এক ব্যতিক্রমী পুনর্মিলনীতে তিনি ১৯৮৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেই বিতর্কিত মুহূর্তের প্রতীকী রূপ ধারণ করা এক মাসকটের সঙ্গে করমর্দন করেন। ‘দ্য অফিসিয়াল মেকআপ’ নামে এই আয়োজনের মাধ্যমে বহু বছরের বিরোধ প্রকাশ্যে শেষ করলেন শিলটন।
আরএএইচইউএল/আইএন