মাদকসেবনের অভিযোগে বহিষ্কার হওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সানজিদা আমীর ইনিসীকে মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
Advertisement
এ বিষয়ে তার এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (২৯ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল এবং বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফজলুর রহমান ও উম্মে কুলসুম রেখা।
আইনজীবী ফজলুর রহমান জানান, ইনিসীর কাছে কিংবা তার কক্ষেও কোনো ধরনের মাদক পাওয়া যায়নি। এমনকি তিনি গাঁজা সেবন করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের একটি কক্ষে মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ ও সেবনের ঘটনায় গত ১৭ জুন ইনিসীসহ দুই নারী শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
Advertisement
একই সঙ্গে তাদের আবাসিক হল থেকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রচলিত রাষ্ট্রীয় আইনে মামলা করার সুপারিশ করা হয়।
বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তনুজা তিথি এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সানজিদা আমীর ইনিসী।
এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে, গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের ১১৬ নম্বর কক্ষে ঝটিকা অভিযান চালায় হল প্রশাসন। অভিযানে কক্ষটি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।
ওই কক্ষটি ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী তনুজা তিথির নামে বরাদ্দ ছিল। আর অভিযানের সময় কক্ষটিতে মাদকসেবনরত অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন সানজিদা আমীর ইনিসী।
Advertisement
এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮ ভঙ্গ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ক্যাম্পাস, বিভাগ, ইনস্টিটিউট বা আবাসিক হলে দেশি-বিদেশি যে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ, সেবন কিংবা ব্যবসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তনুজা তিথি ও সানজিদা আমীর ইনিসীকে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যে তনুজা তিথির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইনে মামলা দায়েরের জোর সুপারিশ করা হয়।
এফএইচ/বিএ