লাইফস্টাইল

বয়সের বিশাল ব্যবধানের বিয়ে, জানেন কী হতে পারে?

বয়সে অনেক বড় বা ছোট কাউকে বিয়ে করা এখন আর খুব অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন জগতের নানা আলোচনায় বয়সের বিশাল ব্যবধানের সম্পর্ক ও বিয়ে নতুন করে নজর কাড়ছে।

Advertisement

তবে এমন সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহলের পাশাপাশি অনেক প্রশ্নও উঠে আসে-এতে কি ভবিষ্যতে কোনো শারীরিক সমস্যা হতে পারে? দাম্পত্য জীবন কি বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে? সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে কি কোনো ঝুঁকি থাকে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সের ব্যবধান নিজেই কোনো রোগ বা সমস্যা তৈরি করে না। বরং সম্পর্কের গুণগত মান, উভয়ের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, জীবনযাপন এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে বয়সের পার্থক্য যত বেশি হয়, কিছু বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

ছবি: বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা ও তার স্বামী নিক জোনাস

Advertisement

বয়সের পার্থক্য মানেই কি স্বাস্থ্যঝুঁকি?

অনেকেই মনে করেন, বয়সে অনেক বড় মানুষকে বিয়ে করলে সঙ্গীর বয়সের কারণে অন্যজনের শরীরেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। বাস্তবে এমন ধারণার পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। একজন নারীর শারীরিক স্বাস্থ্য কেবল স্বামীর বয়সের ওপর নির্ভর করে না। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরে স্বাভাবিক কিছু পরিবর্তন আসে, যা দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন দিককে প্রভাবিত করতে পারে।

আরও পড়ুন পরকীয়া ধরা পড়ে যেসব আচরণে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনায় যা জানা জরুরি

যদি বয়সে অনেক বড় পুরুষকে বিয়ে করা হয় এবং ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের প্রজননক্ষমতা পুরোপুরি শেষ না হলেও শুক্রাণুর গুণগত মান ধীরে ধীরে কমতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, অধিক বয়সী বাবার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু জেনেটিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি হতে পারে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সুস্থ সন্তান জন্ম নেয়, তবুও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা করা বুদ্ধিমানের কাজ।

যৌনজীবনে কী প্রভাব পড়তে পারে?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে অনেক পুরুষের যৌন আকাঙ্ক্ষা বা সক্ষমতায় পরিবর্তন আসতে পারে। আবার অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসার মাধ্যমে দীর্ঘদিন সুস্থ যৌনজীবন বজায় রাখেন।অর্থাৎ বয়স একমাত্র নির্ধারক নয়; ব্যক্তির সামগ্রিক স্বাস্থ্যই এখানে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ছবি: আলোচিত দুই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মামুন ও লায়লা

Advertisement

জীবনযাপনের পার্থক্যও হতে পারে চ্যালেঞ্জ

বয়সের ব্যবধান বেশি হলে দুইজনের জীবনধারা, আগ্রহ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা সামাজিক পরিসরে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। যেমন-

একজন কর্মজীবনের শুরুতে, অন্যজন অবসরের পরিকল্পনায় থাকতে পারেন। একজন সন্তান নেওয়ার কথা ভাবছেন, অন্যজন হয়তো সে দায়িত্ব আর নিতে চান না। বন্ধু, শখ ও সামাজিক জীবনেও পার্থক্য তৈরি হতে পারে।

এসব বিষয় নিয়ে আগেই খোলামেলা আলোচনা করলে ভবিষ্যতের অনেক ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো সম্ভব।

আরও পড়ুন সন্তান হওয়ার পরও সুখী দাম্পত্যের ৭ কৌশল মানসিক চাপের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ

বয়সের বিশাল ব্যবধানের সম্পর্ক অনেক সময় সামাজিক সমালোচনা বা পরিবারের বিরোধিতার মুখে পড়ে। এতে দম্পতির ওপর মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া বয়সে অনেক বড় সঙ্গীর স্বাস্থ্যগত সমস্যা আগে দেখা দিলে অন্যজনকে তুলনামূলক কম বয়সেই পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি জীবন পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যবীমা এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও আগে থেকেই ভাবা প্রয়োজন।

নারীর শরীরে কি সরাসরি কোনো সমস্যা হয়?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র স্বামীর বয়স বেশি হওয়ার কারণে স্ত্রীর শরীরে সরাসরি কোনো শারীরিক সমস্যা তৈরি হয় এমন প্রমাণ নেই। তবে যদি দম্পতি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করেন, তাহলে উভয়েরই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অনুসরণ করা উচিত।

ছবি: আলোচিত দম্পতি তিশা ও মুশতাক

সুখী দাম্পত্যের জন্য যেসব বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক সম্মান খোলামেলা যোগাযোগ মানসিক পরিপক্বতা আর্থিক পরিকল্পনা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে একমত হওয়া প্রয়োজন হলে দাম্পত্য কাউন্সেলিং নেওয়া বিয়ের আগে যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যেতে পারে রক্তের গ্রুপ ও প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা যৌনবাহিত সংক্রমণের স্ক্রিনিং (প্রয়োজনে) প্রজননস্বাস্থ্য মূল্যায়ন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা আরও পড়ুন যারে দেখি লাগে যে ভালো, কিন্তু কেন?

বয়সের বিশাল ব্যবধানের বিয়ে মানেই সম্পর্ক ব্যর্থ হবে বা শারীরিক সমস্যা তৈরি হবে-এমন ধারণা সঠিক নয়। একইভাবে বয়সের পার্থক্যকে একেবারেই গুরুত্ব না দেওয়াও ঠিক নয়। কারণ বয়সের সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য, জীবনযাপন, দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে।

তাই সম্পর্কের ভিত্তি যদি হয় পারস্পরিক সম্মান, বিশ্বাস, সুস্থ যোগাযোগ এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা, তাহলে বয়সের ব্যবধান অনেক ক্ষেত্রেই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। তবে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ দায়িত্বের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আগে থেকেই চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন এজিং, মায়ো ক্লিনিক, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

জেএস/