ধর্ম

ইসলামের প্রকৃত আদর্শ মধ্যপন্থা

আল্লাহ তাআলার জন্য সব প্রশংসা যিনি আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং আমাদেরকে ভারসাম্যপূর্ণ সরল পথে পরিচালিত করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নবী ও আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তিনি তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বিধানসমূহ মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমাদের জন্য নেককার ও সৎ ব্যক্তিদের পথ পরিষ্কার করে দিয়েছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবিদের ওপর শান্তি ও সালাত বর্ষণ করুন।

Advertisement

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর রজ্জু—অর্থাৎ দ্বীন—দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং বিভক্ত হয়ে যেয়ো না’। যে ব্যক্তি আল্লাহর এই রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে না এবং মুসলিম জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, সে নিশ্চিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মত তেহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে। তাদের মধ্যে একটিমাত্র দল নাজাতপ্রাপ্ত হবে’। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন, ‘যারা আমার ও আমার সাহাবিদের পথের ওপর রয়েছে’।

এই দলটিকেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বলা হয়। তারাই হলো নাজাতপ্রাপ্ত দল।

Advertisement

আরও পড়ুন জুমার খুতবা / আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির সহজ আমল

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বৈশিষ্ট্য হলো, তারা আকিদা ও আমলের ক্ষেত্রে মধ্যপন্থী। তারা কোনো বিষয়ে বাড়াবাড়ি করে না, আবার অবহেলাও করে না। আল্লাহর জাত তারা অস্বীকার করে না যেমন নাস্তিকরা করে, আবার তারা বহু ইলাহে বিশ্বাস করে না যেমন মুশরিকরা করে। বরং তারা সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে থেকে আল্লাহর তাওহিদে ইমান আনে।

তারা আল্লাহর সব রাসুলের ওপর ইমান আনে, তাদের কাউকেই অস্বীকার করে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রাসুল তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ইমান এনেছেন, আর মুমিনরাও ইমান এনেছে। তারা সবাই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসুলগণের প্রতি ইমান রাখে এবং বলে, আমরা তাঁর রাসুলদের কারো মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না।’

আমলের ক্ষেত্রে তারা বিশ্বাস করে যে, ইসলামে কোনো রাহবানিয়াত বা সন্ন্যাসবাদ নেই। তারা আশা ও ভয় এই দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে। তারা আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে, আবার দুনিয়াকে খেল-তামাশা বলেও মনে করে না।

আল্লাহ তাআলা এই দলকে একটি মধ্যপন্থী উম্মত হিসেবে সম্মানিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এভাবেই আমি তোমাদেরকে একটি মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের জন্য সাক্ষী হও।’

Advertisement

আরও পড়ুন জুমার খুতবা / ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান

এই দলটিই হলো সাহায্যপ্রাপ্ত দল। নবী (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর সাহায্যপ্রাপ্ত থাকবে। যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না যতক্ষণ না আল্লাহর আদেশ এসে যায়।’ (সুনানে ইবনে মাজা)

অতএব, আমাদের কর্তব্য হলো এই সরল ও সত্য পথকে আঁকড়ে ধরা, বিভেদ ও চরমপন্থা থেকে দূরে থাকা এবং কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, ‘হে আল্লাহ! আমাদেরকে সরল পথ দেখান যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন তাদের পথ; যারা আপনার ক্রোধপ্রাপ্ত নয় ও যারা পথভ্রষ্টও নয়।’

হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক! আপনি আমাদের দোয়া কবুল করুন!

আমি আমার এ কথা বললাম এবং আমার ও আপনাদের জন্য এবং সব মুসলমানের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারাও তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন! নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

আরও পড়ুন জুমার খুতবায় যা বলতেন বিশ্বনবি (সা.)

ওএফএফ