আকর্ষণীয় উপস্থাপনার অভাবে আমরা ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য ও বার্তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে পারছি না। অথচ অন্যান্য মতবাদ, ডকট্রিন বা আইডিওলজি তা যতই অসার ও বস্তাপচা হোক না কেন, সেগুলোকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে অলংকৃত করে, পর্যাপ্ত ফান্ডিং ও পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যে তা সাধারণ মানুষের কাছে রীতিমতো চোখধাঁধানো মনে হয়। কিন্তু আমরা উপযুক্ত ও সঠিক উপস্থাপনার অভাবে অমুসলিম বন্ধুদের কাছে ইসলামের সুমহান শিক্ষা পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হচ্ছি।
Advertisement
এ কারণে অমুসলিম দেশগুলোতে আমরা যারা বসবাস করি, এটি আমাদের সবার এক বিরাট দায়িত্ব। অমুসলিম ভূখণ্ডে আমরা প্রত্যেকেই ইসলামের একেকজন প্রতিনিধি। আমাদের প্রত্যেককে একজন ইসলামিক অ্যাম্বাসেডরের ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ আপনাকে দেখেই অন্যেরা ইসলাম সম্পর্কে ধারণা লাভ করবে। আপনি যদি মিথ্যা বলেন, তবে তারা আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে গালি না দিয়ে বরং বলবে যে মুসলমানরাই এমন। আপনি যদি লেনদেনে কোনো প্রকার অনিয়ম বা কারচুপি করেন, তবে তারা বলবে যে মুসলমানরা এমনই হয়ে থাকে। এই কারণে অমুসলিম দেশে আমাদের অত্যন্ত দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে হবে।
অমুসলিম ভূখণ্ডে যদি কাউকে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেই হয়, তবে তা অবশ্যই দাওয়াতের নিয়ত বা ইসলামকে সঠিকভাবে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে হতে হবে। এটি একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। অমুসলিম দেশে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে যাওয়া গ্রহণযোগ্য, চাকরির প্রয়োজনে যাওয়া ঠিক আছে, চিকিৎসা ও পড়াশোনা সংক্রান্ত উদ্দেশ্যে যাওয়াও স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো অমুসলিম দেশের পাসপোর্ট গ্রহণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চাইলে অবশ্যই দাওয়াতের নিয়ত থাকতে হবে।
যেভাবে রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাহাবাগণ ইসলামের সুমহান বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে অমুসলিম ভূখণ্ডগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছিলেন, আমাদেরও সেই মানসিকতা রাখতে হবে। সাউথ কোরিয়ার মতো দেশে বা অন্য কোনো অমুসলিম ভূখণ্ডে যারা নাগরিকত্ব পেয়েছেন কিংবা পাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন, তাদের অন্তরে এই উদ্দেশ্য স্থির রাখতে হবে যে আমি ইসলামের আদর্শকে ছড়িয়ে দেব। এই নিয়ত থাকলে তবেই সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করা বৈধ বা গ্রহণযোগ্য হবে।
Advertisement
দাওয়াতের নিয়ত ছাড়া অমুসলিম ভূখণ্ডে কোনো মুসলিমের স্থায়ী বসবাসের বিষয়ে রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যে মুসলিম কোনো মুশরিক বা অমুসলিম ভূখণ্ডে অহেতুক বসবাস করে, তার দায়ভার থেকে তিনি মুক্ত। এটি এক ভয়াবহ হুঁশিয়ারি। কিন্তু আপনি যদি সেখানে দাওয়াতের নিয়তে থাকেন, যেমন একটি মসজিদ নির্মাণ করবেন, মসজিদের কাজের সাথে যুক্ত থাকবেন, আপনার প্রতিবেশীর কাছে ইসলামের সুমহান শিক্ষা পৌঁছে দেবেন কিংবা কর্মক্ষেত্রের সহকর্মীদের বোঝাবেন যে ইসলাম অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ, স্বাভাবিক ও মানবতার ধর্ম, তাহলে এই উদ্দেশ্য নিয়ে আপনি সেই ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন।
অন্যকে ইসলাম বোঝাতে বা দাওয়াত দিতে হলে আগে তো নিজের জীবনে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আপনি নিজে যদি ইসলামের বিধান না মানেন, তবে অন্যকে কীভাবে দাওয়াত দেবেন? তাই অন্যকে বোঝানোর আগে আমাদের নিজেদের জীবনে ইসলামকে ধারণ করতে হবে।
আল্লাহ তাআলার কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম হলো ইসলাম। ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো আদর্শ বা পথ যদি কেউ অন্বেষণ করে এবং নিজের জীবনকে তার সাথে যুক্ত করে, তবে আল্লাহর দরবারে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। শেষ বিচারের দিনে সে চরম ক্ষতিগ্রস্ত ও হতভাগাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
তাই আসুন, আমরা যেন ইসলামকে আমাদের মূল শিকড় হিসেবে গ্রহণ করি। আমাদের সন্তান ও পরবর্তী প্রজন্মকে ইসলামিক সঠিক শিক্ষার ওপর গড়ে তুলি। ভেতরে-বাইরে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গভাবে লালন ও ধারণ করি এবং এর সুমহান বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দিই।
Advertisement
সূত্র: মিজানুর রহমান আজহারীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তার বক্তব্যের ভিডিও থেকে লেখাটি তৈরি করা হয়েছে।
ওএফএফ