ধর্ম

সুরা কাওসারের বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও ব্যাখ্যা

সুরা কাওসারের পরিচয়

সুরা কাওসার পবিত্র কোরআনের ১০৮তম সুরা, সবচেয়ে ছোট সুরা। মাত্র তিনটি আয়াত, একটি রুকু এবং বারোটি শব্দবিশিষ্ট সুরা কাওসার আকারে সংক্ষিপ্ত হলেও এর মর্ম ব্যাপক ও গভীর। সুরাটির মূল আলোচ্যবিষয় নবীজির (সা.) মর্যাদা, নবীজির (সা.) ওপর আল্লাহর অপরিসীম নেয়ামত ও অনুগ্রহ, পাশাপাশি সুরাটিতে নবীজি (সা.) ও তার দাওয়াত তথা ইসলামের সফলতা ও কাফেরদের ব্যর্থতার ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল যা পরবর্তীতে সত্য প্রমাণিত হয়। সুরাটিতে ইসলামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ আমল নামাজ ও কোরবানির নির্দেশও এসেছে। হানাফি মাজহাবে কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার দলিল এ সুরায় বর্ণিত কোরবানির নির্দেশ।

Advertisement

সুরা কাওসারের বাংলা উচ্চারণ

১. ইন্না আ'তাইনাকাল কাওসার।

২. ফাসাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ানহার।

৩. ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার।

Advertisement

সুরা কাওসারের বাংলা অর্থ

১. নিশ্চয় আমি তোমাকে কাওসার দান করেছি।

২. সুতরাং তোমার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় কর ও কোরবানি কর।

৩. নিশ্চয় তোমার প্রতি শত্রুতা পোষণকারীই নির্বংশ।

সুরা কাওসার নাজিল হওয়ার পটভূমি

রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবিত একমাত্র পুত্র কাসেম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন মক্কার কাফেররা অত্যন্ত নির্দয়ভাবে নবীজিকে (সা.) বিদ্রূপ করতে শুরু করে। বিশেষ করে কোরাইশ নেতা আস ইবনে ওয়ায়েল ও তার সঙ্গীরা বলতে থাকে যে, মুহাম্মদ (সা.) তো 'আবতার' বা নির্বংশ হয়ে গেছেন; তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর নাম নেওয়ার মতো আর কেউ থাকবে না।

Advertisement

কাফেরদের এ রকম কথাবার্তার জবাবে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবীকে (সা.) সান্ত্বনা দিয়ে এ সুরা নাজিল করেন। আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, নবীজি (সা.) নন, বরং তার নিন্দুকরাই পৃথিবীর বুক থেকে চিরতরে মুছে যাবে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)

কাওসার কী?

কাওসার জান্নাতের একটি ঝর্ণার নাম। রাসুল (সা.) বলেছেন, কাওসার জান্নাতের একটি ঝর্ণা। এর দুই তীর হল স্বর্ণের, মতি ও ইয়াকুতের ওপর দিয়ে তা প্রবাহিত হয়। এর মাটি কস্তুরির চেয়ে বেশি সুগন্ধময় আর পানি তুষারের চেয়ে সাদা ও মধুর চেয়ে মিষ্টি। (সুনানে তিরমিজি: ৩৩৬১)

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘কাওসার’ সেই অজস্র কল্যাণ যা আল্লাহ তা'আলা রাসুলুল্লাহকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দান করেছেন।

ইকরিমা (রহ.) বলেন, কাওসার অর্থ নবুওয়ত, কোরআন ও আখেরাতের সওয়াব।

এ ব্যাখ্যাগুলো পরস্পরবিরোধী নয়, বরং হাদিসে বর্ণিত কাওসার নামক ঝর্ণাটি নবীজিকে (সা.) দান করা অজস্র কল্যাণের একটি। কাওসার শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো, সীমাহীন আধিক্য। আয়াতে ‘কাওসার’ শব্দের অর্থ কল্যাণ ও নেয়ামতের আধিক্য; কোনো একটি কল্যাণ বা নেয়ামত নয় বরং অসংখ্য কল্যাণ ও নেয়ামতের আধিক্য, যার মধ্যে একটি হল জান্নাতের ঝর্ণা। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)

সুরা কাওসারের শিক্ষা ১. আল্লাহ নবিজিকে প্রচুর নেয়ামত দান করেছেন ও সম্মানিত করেছেন। দুনিয়ার মানুষের উপহাস তার সম্মানহানি করতে পারে না। ২. নামাজ ও কুরবানি ইসলামের দুটি আবশ্যকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ আমল। আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার জন্য আমাদের কর্তব্য তার ইবাদতে নিমগ্ন হওয়া; নামাজ পড়া, কুরবানি করা। ৩. সাধারণ ক্ষেত্রে বদদোয়া করা বা অভিশাপ দেওয়া ভালো নয়। কিন্তু কেউ জুলুমের শিকার হলে জালিমের বিরুদ্ধে বদদোয়া করতে পারে। ৪. সন্তান আল্লাহর দান। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ছেলে দেন, যাকে ইচ্ছা মেয়ে দেন। ছেলে বা মেয়ে কারো মর্যাদা বা সফলতার মাপকাঠি নয়। ছেলে না থাকলে কেউ নির্বংশ হয় না। মানুষ নির্বংশ ও নাম-চিহ্নহীন হয় তার মন্দ কাজের কারণে। 

ওএফএফ