ধর্ম

বিতরের পর নফল নামাজ পড়লে কি সওয়াব হয় না?

প্রশ্ন: অনেকে বলেন, রাতে বিতর নামাজের আগেই নফল নামাজ পড়তে হয়, বিতর পড়ে ফেলার পর আর নফল নামাজ পড়া যায় না, বিতরের পর নফল নামাজ পড়লেও সওয়াব হয় না, এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য জানাবেন।

Advertisement

উত্তর: রাতে ইশার নামাজ, ইশার সুন্নত নামাজ ও নফল নামাজের পর সবশেষে বিতর নামাজ আদায় করা উত্তম। নবীজি (সা.) সাধারণত রাতের সর্বশেষ নামাজ হিসেবে বিতর নামাজ আদায় করতেন। সাহাবিদেরও তিনি রাতের সর্বশেষ নামাজ হিসেবে বিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত রয়েছে রাসুল (সা.) বলেছেন, আপনারা বিতরকে রাতের সর্বশেষ নামাজ বানান। (সহিহ বুখারি: ৪৭২, সহিহ মুসলিম: ৭৪৯)

কিন্তু এর অর্থ এ নয় যে, বিতর নামাজ পড়ে ফেললে এরপর কোনো নফল পড়া যাবে না। বরং বিতর নামাজের পরও নফল নামাজ পড়া জায়েজ এবং বিতর নামাজের পর নফল নামাজ পড়লে সওয়াব হবে বলেও আশা করা যায়।

আরও পড়ুন বেতর নামাজে যেসব সুরা পড়া সুন্নত

আবু বকর (রা.) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ও আম্মার বিন ইয়াসির (রা.) প্রমুখ সাহাবিদের আমল দ্বারা এমনটি প্রমাণিত আছে যে, তারা ইশার পর বিতর পড়ে শেষ রাতে তাহাজ্জুদ পড়েছেন। (মুসান্নাফে আবদুর রযযাক: ৪৬১৫-৪৬২১)

Advertisement

সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনায় এসেছে যে, নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিতরের পর বসে দুই রাকাত নামাজ পড়েছেন। (সহিহ মুসলিম: ৭৩৮)

এ হাদিসের ব্যাখ্যায় সহিহ মুসলিমের প্রখ্যাত ব্যাখ্যাকার ইমাম নববী (রহ.) লিখেছেন, বিতরের পর দুই রাকাত নামাজ নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিয়মিত পড়েননি। বরং বিতরের পরও নফল পড়া জায়েজ আছে এবং নফল নামাজ বসে পড়া জায়েয আছে- তা বোঝানোর জন্য কখনো হয়তো এ রকম আমল করেছেন। (শরহে মুসলিম: ৬/২১)

আরও পড়ুন বিতর নামাজে দোয়া কুুনুতের সঙ্গে দরুদ পড়া কি মুস্তাহাব?

ওএফএফ

Advertisement