দীর্ঘ প্রায় ১০ মাসের প্রতিযোগিতা শেষে পর্দা নামল জনপ্রিয় সংগীতভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’-এর। এবারের আসরে চ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতেছেন ভারতের ওড়িশার তরুণ কণ্ঠশিল্পী জ্যোতির্ময়ী নায়েক।
Advertisement
এর মধ্য দিয়ে তিনি ইন্ডিয়ান আইডলের ইতিহাসে প্রথম ওড়িয়া প্রতিযোগী হিসেবে শিরোপা জয়ের অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করলেন।
গ্র্যান্ড ফিনালে জ্যোতির্ময়ীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিজয়ীর ট্রফি। পাশাপাশি পুরস্কার হিসেবে তিনি পান ২০ লাখ রুপি।
এবারের আসরে প্রথম রানারআপ হয়েছেন জবলপুরের তানিস্ক শুক্লা। এছাড়া ফাইনালে অংশ নিয়েছিলেন অংশিকা চোনকার, মনরাজ বীর সিং, মাইসকম্মে বসু এবং সুহেল সুফি।
Advertisement
শিরোপা জয়ের পর আবেগাপ্লুত জ্যোতির্ময়ী বলেন, প্রায় এক বছর আগে স্বপ্ন নিয়ে তিনি মুম্বাইয়ে এসেছিলেন। সেই স্বপ্নই আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। তবে প্রতিযোগিতার পুরো সময় তিনি কখনোই পুরস্কারের অর্থ নিয়ে ভাবেননি।
তার ভাষায়, ‘আমার লক্ষ্য ছিল শুধু নিজের সেরাটা দেওয়া এবং বিচারকদের কাছ থেকে ইতিবাচক মন্তব্য পাওয়া। তাই প্রাইজমানির অর্থ কীভাবে ব্যবহার করব, সেটাও এখনো ঠিক করিনি।’
প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কিংবদন্তি শিল্পীদের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করার সুযোগ ছিল তার সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। অন্যদিকে এলিমিনেশন রাউন্ডে নিচের সারিতে থাকা ছিল সবচেয়ে কঠিন সময়। তবে দর্শকদের ভালোবাসা, ভোট এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমই তাকে শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর আসনে পৌঁছে দিয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহ ছিল জ্যোতির্ময়ীর। ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এ অংশ নেওয়ার আগে তিনি মূলত ভক্তিমূলক ও আঞ্চলিক গান গেয়ে পরিচিতি পান। তিনি একজন প্রশিক্ষিত কণ্ঠশিল্পী হওয়ার পাশাপাশি মিউজিক থেরাপিস্ট হিসেবেও কাজ করেন।
Advertisement
এই সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি বাবা-মায়ের প্রতি উৎসর্গ করেছেন। জ্যোতির্ময়ীর ভাষায়, পরিবার সবসময় তাকে স্বপ্ন পূরণে উৎসাহ দিয়েছে এবং কখনো নিরুৎসাহিত করেনি। সেই সমর্থনই তাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
আরও পড়ুন ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমার নায়িকাকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, যা ঘটেছিলোউল্লেখ্য, ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৬’র বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন শ্রেয়া ঘোষাল, বিশাল দাদলানি ও বাদশাহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আদিত্য নারায়ণ। জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উষা উত্থুপ, উদিত নারায়ণ, পাপন, কুমার শানু, শেহনাজ গিল এবং উর্মিলা মাতন্ডকর।
এলআইএ