দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকটে বিপাকে পড়েছেন সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালাকরা। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক সিএনজি স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস নিতে পারছেন না চালকরা। আবার কোথাও কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে গিয়ে দিনের বড় একটি সময় নষ্ট হচ্ছে। এতে কমেছে তাদের দৈনিক আয়, বেড়েছে ভোগান্তি।
Advertisement
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের হতাশার কথা জানা গেছে।
সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কোনো কোনো স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় ধীরগতিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে একটি গাড়িকে গ্যাস নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক চালক গ্যাস না পেয়ে স্টেশন থেকে ফিরে যাচ্ছেন।
চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে স্বাভাবিক সময়ে দিনে কয়েকবার যাত্রী পরিবহন করলেও গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় স্টেশনগুলোতে অপেক্ষা করার কারণে যাত্রী পরিবহনের সময় কমে যাচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় দৈনিক আয় অনেক কমে গেছে।
Advertisement
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক মহিদুল বলেন, আগে গ্যাস নিতে এত সময় লাগত না। এখন ২/৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এই সময়টায় গাড়ি চালাতে পারলে আয় করতে পারতাম। কিন্তু গ্যাসের জন্য বসে থাকতে হচ্ছে। দিন শেষে আয় অনেক কমে গেছে।
আজিমপুর এলাকার সিএনজি চালিত অটোচালক মহব্বত বলেন, অনেক সময় গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। তখন অন্য স্টেশনে যেতে হয়। সেখানে আবার নতুন করে লাইন। এতে জ্বালানি খরচও বাড়ে, আয়ও কমে।
চালকরা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে একদিকে যেমন তাদের আয় কমেছে, অন্যদিকে যাত্রীদেরও ভোগান্তি বেড়েছে। দীর্ঘ সময় সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষা করার কারণে অনেক চালক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না। ফলে যাত্রীদেরও বাড়তি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
শাহবাগে চালক তোফায়েল বলেন, আগে দিনে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আয় করতে পারতাম। গতকাল মাত্র ১ হাজার টাকা আয় করছি। আজ সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুরে গ্যাস পেয়েছি। আধা বেলা গ্যাস নিতেই চলে গেল। এখন ইনকাম করবো কখন।
Advertisement
এদিকে, গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন ও শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। রাজধানীর অনেক এলাকায় বাসাবাড়িতেও গ্যাসের চাপ কমে গেছে। রান্না করতে না পেরে অনেকে বৈদ্যুতিক চুলা ও এলপিজির ওপর নির্ভর করছেন। এতে বাড়ছে খরচ।
আরও পড়ুন ৩০ জুলাই দিনব্যাপী সিএনজি স্টেশন বন্ধের কর্মসূচি প্রত্যাহারচালকদের দাবি, গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান করে সিএনজি স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে দীর্ঘমেয়াদি এই সংকটে তাদের আয় আরও কমে যাবে।
এদিকে গতকাল (রোববার) এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীস্থ এলএনজি টার্মিনালসমূহ থেকে আরএলএনজি সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে।
এনএস/এমআইএইচএস