দেশজুড়ে

বাজার মনিটরিং না থাকায় দাম বাড়ছে মরিচের, অভিযোগ ভোক্তাদের

ফরিদপুরের মাঠে কৃষক যে কাঁচা মরিচ বিক্রি করছেন কেজিপ্রতি ২৪৫ টাকায়, সেটিই কয়েক হাত ঘুরে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। টানা বৃষ্টিতে মরিচের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে তদারকির অভাবকে এ মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ভোক্তারা।

Advertisement

বৃষ্টির কারনে মরিচ ক্ষেতের ক্ষতি হলেও ভোক্তাদের অভিযোগ বাজার মনিটরিং না থাকায় এমনভাবে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে ভোক্তা অধিকারের দাবী তারা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার নয়টি উপজেলার মধ্য মধুখালী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মরিচ আবাদ হয়। তবে গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টির কারণে মাঠের অধিকাংশ মরিচ গাছ পানির নীচে পচে ও মারা যাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে ক্ষেতে মরিচ না থাকায় বাজারে খুচরা পর্যায়ে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, মধুখালীতে চলতি মৌসুমে প্রায় দুই হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ করা হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে মাঠের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মরিচ গাছ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার রায়পুর, জাহাপুর ও মেগচামী ইউনিয়নের মরিচ চাষিরা। উপজেলার মরিচ চাষিরা কম খরচে মরিচের সাথি ফসল হিসেবে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেন। অতি বৃষ্টির কারণে কুমড়ার ক্ষেতও নষ্ট হয়ে গেছে।

Advertisement

উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের কৃষক মো. টুকু মণ্ডল বলেন, এ বছর ৫০ শতাংশ জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলাম। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে সব গাছ মারা গেছে। এখন মরিচ ক্ষেত তুলে সেখানে ধানের আবাদ করবো। মরিচ চাষে যে পরিমাণ খরচ করেছি, তার অর্ধেকও তুলতে পারিনি। সরকার যদি ক্ষতিপূরণ দেয়, তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।

আরও পড়ুন ৩০০ ছুঁই ছুঁই, আরও বাড়তে পারে কাঁচামরিচের দাম

আরেক কৃষক মো. খসরু মিয়া বলেন, সার ও কীটনাশকের দাম অনেক বেড়েছে। তার ওপর বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছি। সরকারের সহযোগিতা পেলে কৃষকরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব।

কৃষক মো. শফিক শেখ বলেন, ‌‌‘মরিচ গাছ আর বাঁচবে না। তাই গাছ তুলে এখন ধানের আবাদ করাই একমাত্র উপায়।’

মেকচামী ইউনিয়নের বামুন্দি গ্রামের মরিচ চাষি ক্ষিতিশ বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, ‘৪০ শতক জমিতে মরিচ আবাদ করেছিলাম। ফলন বেশ ভালো হয়েছে। মঙ্গলবার মধুখালী পাইকারি বাজারে নয় হাজার ৮০০ টাকা মন দরে বিক্রি করেছি। খেতের মরিচ কয়েক হাত ঘুরে খুচরা বাজারে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।’

Advertisement

সালথা উপজেলার বাসিন্দা বিধান মন্ডল বলেন, ‘আজকে আড়াইশো গ্রাম মরিচ কিনেছি ৮০ টাকা দিয়ে। প্রতিদিনই যেন দাম বাড়ছে। তবে বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অথবা প্রশাসনের কোন কর্মকর্তাকে মনিটরিং করতে দেখা যায়নি।’

বোয়ালমারী পৌর সদরের বাসিন্দা সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার অথবা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বাজার মনিটরিং করা উচিৎ। কিন্তু তাদের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।’

ফরিদপুর শহরের জনতা ব্যাংকের মোড় এলাকার মোহাম্মদীয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক দাউদ আকন্দ জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল যে মরিচ ২৫০ টাকা কেজি দরে কিনেছি সেই মরিচ আজ ৩০০ টাকা কেজি কিনতে হয়েছে।

মধুখালী মরিচ বাজারের আড়ৎদার মো. আলম মোল্লা জাগো নিউজকে বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারে মরিচের আমদানি কম। নয় হাজার ৮০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা প্রতিমন মরিচ পাইকারি দরে বিক্রি হয়েছে। আর খুচরা বাজারে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি হয়েছে। তবে পাইকারি বাজারে কোনো সিন্ডিকেট নেই।’

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ফরিদপুরের উপপরিচালক মাহমুদুল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আবহাওয়ার কারণে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। যার কারণে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে মরিচের আমদানি কম। দাম আরও বাড়তে পারে। মাস খানেক বাজারে এমন অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করবে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে।’

মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব ইলাহী বলেন, ‘মধুখালীতে এ বছর দুই হাজার ৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। তবে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হওয়ায় অনেক ক্ষেতের মরিচ গাছ মারা গেছে এবং কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষককে সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান আছে।’

এন কে বি নয়ন/এসজেডএইচ/জেআইএম