মতামত

ভোটহীন ঢাকার দুই সিটি, জবাবদিহিহীন নাগরিক সেবা

ঢাকার কোনো পাড়া-মহল্লায় বৃষ্টির পর জলাবদ্ধতা, কোথাও ময়লার স্তূপ, কোথাও সড়কের বাতি নিভে থাকা, কোথাও মশার উপদ্রব—এসব এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো নাগরিক দুর্ভোগ নয়; এগুলো রাজধানীর দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। নাগরিকরা অভিযোগ করেন, কিন্তু অভিযোগের শেষ গন্তব্য কোথায়—তা অনেক সময় নিজেরাই জানেন না। নির্বাচিত মেয়র নেই, নির্বাচিত কাউন্সিলর নেই; অথচ নগরজীবনের সমস্যাগুলো থেমে নেই। বরং জনসংখ্যা, যানবাহন, নির্মাণকাজ ও পরিবেশগত চাপের সঙ্গে সঙ্গে সমস্যার পরিধি বাড়ছে।

Advertisement

এই বাস্তবতায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন এখন কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি আকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়; এটি রাজধানীর প্রায় দেড় কোটি মানুষের নাগরিক অধিকার, জবাবদিহি এবং স্থানীয় গণতন্ত্রের প্রশ্ন। সর্বশেষ ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। সেই নির্বাচনের পর মেয়ররা দায়িত্ব নেন একই বছরের মে মাসে। কিন্তু ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মেয়রদের অপসারণ করা হয় এবং সিটি করপোরেশনগুলো প্রশাসকনির্ভর হয়ে পড়ে। ফলে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার কাঠামোর ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়।

এখন প্রশ্ন হলো—ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচন কবে? সর্বশেষ পরিস্থিতি হলো, এখনো নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ বা আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। তবে জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের দাবি জোরালো হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম আলোচনায় আসছে এবং ঢাকার দুই সিটিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সূচনাস্থল করার দাবি উঠেছে। গত ২৬ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঢাকার দুই সিটিতে আগে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে। দলটির বক্তব্য, রাজধানীতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে তার ইতিবাচক প্রভাব দেশের অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পড়বে।

এই দাবির রাজনৈতিক তাৎপর্য অবশ্যই আছে। কিন্তু তার চেয়েও বড় বাস্তবতা হলো—ঢাকার নাগরিকরা আর অনির্দিষ্ট অপেক্ষার মধ্যে থাকতে পারেন না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগ্রহ নয়; এটি সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ। জাতীয় সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রতিদিনের নাগরিক জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত স্থানীয় সরকারেও জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি প্রয়োজন।

Advertisement

একটি শহর কেবল ভবন, রাস্তা ও যানবাহনের সমষ্টি নয়; একটি শহর তার নাগরিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রতিদিনের চুক্তি। ঢাকার দুই সিটিতে সেই চুক্তি নতুন করে লিখতে হলে প্রথম স্বাক্ষরটি হতে হবে জনগণের ভোটে। আর সেই ভোট যত দ্রুত, যত সুষ্ঠু ও যত বিশ্বাসযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে, ঢাকার ভবিষ্যৎ তত দ্রুত নাগরিকের হাতে ফিরে আসবে।

কারণ, সিটি করপোরেশন কেবল রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া বা ময়লা অপসারণের প্রতিষ্ঠান নয়। নগরবাসীর জীবনযাত্রার সঙ্গে এর দায়িত্ব বহুমাত্রিকভাবে যুক্ত। সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও ফুটপাত রক্ষণাবেক্ষণ, সড়কবাতি, ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, কবরস্থান ও শ্মশান ব্যবস্থাপনা, পার্ক ও খেলার মাঠ, নগর সৌন্দর্য, পশু নিয়ন্ত্রণ, কিছু বাজার ও জনসেবামূলক স্থাপনা পরিচালনা, নাগরিক অভিযোগ গ্রহণ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম। দুই সিটি করপোরেশনের নাগরিক সনদেও বিভিন্ন ধরনের সেবার কথা উল্লেখ রয়েছে।

কাগজে এসব সেবা যতটা বিস্তৃত, বাস্তবে তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই নগরবাসীর প্রত্যাশা ও অসন্তোষের জায়গা রয়েছে। একটি ড্রেন বন্ধ হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা হয়; জলাবদ্ধতা হলে রোগের ঝুঁকি বাড়ে; মশা বাড়লে জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পড়ে; রাস্তার বাতি নষ্ট হলে নিরাপত্তা প্রশ্নে পড়ে; ফুটপাত দখল হলে পথচারীর চলাচল ব্যাহত হয়। একটি সেবার ব্যর্থতা দ্রুত অন্য সেবার ওপরও প্রভাব ফেলে। নগর ব্যবস্থাপনা তাই আলাদা আলাদা দপ্তরের বিচ্ছিন্ন কাজ নয়; এটি সমন্বিত নাগরিক জীবনের প্রশ্ন।

এখানেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির গুরুত্ব। একজন মেয়র বা কাউন্সিলর শুধু রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি নাগরিক অভিযোগের প্রথম রাজনৈতিক ঠিকানা। একটি ওয়ার্ডের মানুষ জানেন, তাঁদের নির্বাচিত কাউন্সিলর কে। তাঁরা তাঁর কাছে যেতে পারেন, প্রশ্ন করতে পারেন, কাজের দাবি জানাতে পারেন, পরবর্তী নির্বাচনে তাঁকে প্রত্যাখ্যানও করতে পারেন। প্রশাসক বা আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই রাজনৈতিক জবাবদিহির জায়গাটি দুর্বল হয়ে পড়ে। কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন প্রশাসনিক কাঠামোর কাছে; নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করেন জনগণের কাছে।

Advertisement

ঢাকার দুই সিটিতে জনপ্রতিনিধি না থাকার ফলে এই জবাবদিহির শূন্যতাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। কোনো এলাকায় দীর্ঘদিন ময়লা পড়ে থাকলে নাগরিকরা অভিযোগ করেন, কিন্তু তাঁদের নির্বাচিত রাজনৈতিক প্রতিনিধি নেই। কোনো রাস্তা ভাঙা থাকলে বা ড্রেন সংস্কার না হলে চাপ প্রয়োগের গণতান্ত্রিক মাধ্যম সীমিত হয়ে যায়। কোনো ওয়ার্ডে উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রাধিকার কী হবে, তা নির্ধারণে নাগরিক অংশগ্রহণ কমে যায়। ফলে স্থানীয় সরকার ধীরে ধীরে নাগরিকমুখী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা কাঠামোয় পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

অবশ্যই প্রশাসক ব্যবস্থা পুরোপুরি অকার্যকর—এমন কথা বলা যাবে না। নগর করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করেন, সেবা চালু রাখেন, বাজেট বাস্তবায়ন করেন। কিন্তু প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য আছে। একজন কর্মকর্তা ফাইল, বিধি ও প্রশাসনিক নির্দেশনার মাধ্যমে কাজ করেন; একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি নাগরিকের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক চাপ এবং ভোটের জবাবদিহির মধ্যে কাজ করেন। একটি আধুনিক নগরের জন্য দুটিই দরকার—দক্ষ প্রশাসন এবং গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব।

ঢাকার সমস্যা এত গভীর যে কেবল একজন মেয়র নির্বাচিত হলেই তার সমাধান হবে না। যানজটের জন্য সিটি করপোরেশন এককভাবে দায়ী নয়; পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, পুলিশ, গণপরিবহন মালিক, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য সংস্থা যুক্ত। জলাবদ্ধতার ক্ষেত্রেও সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, খাল-নদী ব্যবস্থাপনা ও ভূমি ব্যবহারের বিষয় জড়িত। ফলে নির্বাচিত মেয়রকে ক্ষমতা না দিয়ে শুধু দায়িত্ব দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত ক্ষমতা, অর্থায়ন ও আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয়ের প্রশ্নও সমাধান করতে হবে।

নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি হলো একটি বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ। রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা কিংবা নির্বাচনি প্রস্তুতি—এসব ইতিবাচক লক্ষণ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দুই সিটির জন্য মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে; অন্য দলগুলোও সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে এগোচ্ছে।

কিন্তু প্রার্থী ঘোষণা নির্বাচন নয়। নির্বাচন বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন নির্বাচন কমিশনের সুস্পষ্ট সময়সূচি, ভোটার তালিকা ও সীমানা-সংক্রান্ত প্রস্তুতি, নির্বাচনি পরিবেশ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ। নির্বাচন যত দেরি হবে, অনিশ্চয়তা তত বাড়বে। আর অনিশ্চয়তার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে নাগরিকদের।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন তাই দ্রুত আয়োজন করা প্রয়োজন—তবে তাড়াহুড়ো করে নয়, বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে। নির্বাচন কেবল একটি তারিখে ভোট গ্রহণের ঘটনা নয়; এটি জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া। জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেই আস্থা পুনর্নির্মাণের একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে। রাজধানীর নির্বাচন যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে তা দেশের অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ইতিবাচক বার্তা দেবে। যদি স্থানীয় নির্বাচনও দলীয় প্রভাব, প্রশাসনিক পক্ষপাত বা কারচুপির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে গণতন্ত্রের সবচেয়ে কাছের স্তরটিই দুর্বল হয়ে পড়বে।

তবে শুধু নির্বাচন হলেই নাগরিক সেবা নিশ্চিত হবে—এমন সরল আশাবাদও বাস্তবসম্মত নয়। নতুন মেয়র ও কাউন্সিলরদের জন্য প্রয়োজন নাগরিক সেবার পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য। কোন ওয়ার্ডে কত দিনে ময়লা অপসারণ হবে, কত সময়ের মধ্যে অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে, কোন রাস্তা কখন সংস্কার হবে, জলাবদ্ধতার ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো কীভাবে চিহ্নিত হবে—এসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা যেতে পারে। প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিক সভা, অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা, প্রকল্পের খরচ ও অগ্রগতির প্রকাশ এবং সামাজিক নিরীক্ষা চালু করা দরকার। প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাগরিকের অভিযোগের সঙ্গে ছবি, অবস্থান ও সময় যুক্ত করা গেলে সেবার জবাবদিহি আরও বাড়তে পারে। নাগরিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণায়ও প্রযুক্তিনির্ভর অভিযোগ গ্রহণ ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।

ঢাকার মেয়রদের আরও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—নগর উন্নয়ন মানে শুধু উড়ালসড়ক, সড়ক প্রশস্তকরণ বা বড় প্রকল্প নয়। একটি বাসযোগ্য শহর তৈরি হয় পরিষ্কার রাস্তা, নিরাপদ ফুটপাত, কার্যকর ড্রেন, খোলা জায়গা, সবুজ, গণপরিবহন এবং নাগরিক মর্যাদার সমন্বয়ে। সিটি করপোরেশনের বাজেটের প্রতিটি টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে, তা নাগরিকের জানার অধিকার। মেয়রকে তাই শুধু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকারী নয়, একজন জবাবদিহিমূলক নগর ব্যবস্থাপক হতে হবে।

ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচন কবে হবে—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো নির্দিষ্ট নয়। কিন্তু আরেকটি প্রশ্নের উত্তর বিলম্বিত করার সুযোগ নেই: নাগরিকরা কবে নিশ্চিত, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর সেবা পাবেন?

এই দুই প্রশ্ন আসলে আলাদা নয়। নির্বাচন যতক্ষণ অনিশ্চিত, স্থানীয় গণতন্ত্র ততক্ষণ অসম্পূর্ণ। আর স্থানীয় গণতন্ত্র যতক্ষণ দুর্বল, নাগরিক সেবাও ততক্ষণ ব্যক্তিনির্ভর, দপ্তরনির্ভর ও অনিশ্চিত থেকে যায়। ঢাকার মানুষ শুধু ভোট দিতে চান না; তাঁরা এমন একটি শহর চান যেখানে অভিযোগ করলে তার প্রতিকার হয়, কর দিলে তার বিনিময়ে সেবা পাওয়া যায়, রাস্তা পার হতে জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে হয় না, বৃষ্টিতে ঘরবন্দি হতে হয় না এবং নাগরিক পরিচয়টি কেবল ভোটার তালিকার একটি সংখ্যা হয়ে থাকে না।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচন তাই রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারের একটি সাধারণ ঘটনা নয়। এটি রাজধানীর নাগরিক জীবনের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণের সুযোগ। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব এখন স্পষ্ট—অনির্দিষ্ট অপেক্ষা নয়, একটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনি রোডম্যাপ দিতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বও সমান—ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতাকে নাগরিক সেবার প্রতিযোগিতায় রূপান্তর করা।

ঢাকার মানুষ বহুদিন ধরে প্রতিশ্রুতি শুনেছেন। এবার তাঁদের দরকার সময়সূচি, ভোট এবং কাজের হিসাব। কারণ একটি শহর কেবল ভবন, রাস্তা ও যানবাহনের সমষ্টি নয়; একটি শহর তার নাগরিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রের প্রতিদিনের চুক্তি। ঢাকার দুই সিটিতে সেই চুক্তি নতুন করে লিখতে হলে প্রথম স্বাক্ষরটি হতে হবে জনগণের ভোটে। আর সেই ভোট যত দ্রুত, যত সুষ্ঠু ও যত বিশ্বাসযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হবে, ঢাকার ভবিষ্যৎ তত দ্রুত নাগরিকের হাতে ফিরে আসবে।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট। ডেপুটি এডিটর, জাগো নিউজ।drharun.press@gmail.com

এইচআর/এমএফএ/এএসএম