১৪৪ ধারা জারির পরও হবিগঞ্জে আসছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি। এছাড়া কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি এবং সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতা। এদিকে জেলা সদরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
Advertisement
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা ইতোমধ্যে সিলেট এসে পৌঁছেছেন। আশা করি বিকেলে হবিগঞ্জে এসে পৌঁছাবেন।
তিনি বলেন, আমাদের ওপর গতকাল ন্যক্কারজনকভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলাম। যেহেতু প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে তাই আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ কর্মসূচি থেকে সরে এসেছি। তবে বিষয়টি আমরা জাতির সামনে তুলে ধরতে চাই। তাই বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা জাতিকে অবহিত করবো।
হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, ‘হবিগঞ্জ বরাবরই একটি শান্তিপ্রিয় শহর। আমাদের রাজনীতির ইতিহাসও রয়েছে। এ জেলার মানুষ যেমন অতিথি আপ্যায়ন প্রিয়, তেমনি বেয়াদবিও সহ্য করেন না।’
Advertisement
এনসিপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘রাজনীতির সমালোচনার একটি শিষ্টাচার থাকা দরকার। এর বাইরে গিয়ে তারা দেশের কর্ণধার, আমাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে অশালীন বক্তব্য দিয়েই চলছেন। তারা অপরিপক্ব রাজনীতিবিদ। অল্প সময়ের মধ্যে তাদের জন্ম হয়েছে। তারা যদি অন্যান্য দলের মতো দীর্ঘ রাজনীতি করে উঠতো তবে এ ধরনের অশালীন বক্তব্য দিত না।
তিনি আরও বলেন, ‘হবিগঞ্জের মানুষ বরাবরই প্রতিবাদী। তাই হয়তো সহ্য করতে না পেরে মানুষ প্রতিবাদ করেছে। তবে এ ধরনের বিষয় কাম্য নয়। আমরা শুনেছি তারা আজও আবার আসবে। আমি চাই এ ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা তাদের স্বাগত জানাই। তবে শালীনতার সঙ্গে তাদের রাজনীতি করা উচিত।
আরও পড়ুন ছাত্রদল-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি: হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারিসদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক বলেন, ‘মঙ্গলবারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত।
বিজিবি জানায়, জেলা সদরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
Advertisement
তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রার সভা শেষ করে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা গাড়িবহর নিয়ে সার্কিট হাউজে যাওয়ার পথে সবুজবাগ এলাকায় পৌঁছলে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের ওপর হামলা চালায় একদল যুবক। এসময় তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে তারা সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন দুপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে রাত ৮টার দিকে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউজে নিয়ে যায়। রাত ১১টায় সারজিস আলম মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এর আগে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং এনসিপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এছাড়া তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/কেজে/জেআইএম