দেশজুড়ে

তিন শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ, নির্যাতনের অভিযোগ

মাত্র তিন শতাংশ জমি, যা একটি কৃষক পরিবারের সচ্ছলতার অবলম্বন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটিকে কেন্দ্র করে বিরোধে জড়িয়েছে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার দুটি পক্ষ। জমি নিয়ে হামলা, মামলা, দখল এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছে একটি পরিবার। তবে অভিযুক্ত পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তারা নিজেদের জমিতেই ঘর নির্মাণ করেছেন।

Advertisement

ঘটনাটি সিংগাইর উপজেলার ধল্লা মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইউনুস আলীর পরিবারের সঙ্গে ঘটেছে বলে অভিযোগ।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২১ জুলাই বাড়ির পাশের একটি ক্লাবে সালিশ বৈঠকে অংশ নিতে যান ইউনুস আলী। তার অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জেরে সেখানে স্থানীয় সলিম মিয়া, নুরুল ইসলাম, কামাল মিয়া ওরফে কদর, ইকবাল মিয়াসহ আরও চার থেকে পাঁচজন তার ওপর হামলা চালান।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইউনুস আলীর মেয়ের জামাইয়ের বোন তাছলিমা। পরিবারের দাবি, তাকেও মারধর করা হয়। হামলার সময় তার গলায় থাকা একটি স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

Advertisement

ঘটনার পর ইউনুস আলীর পরিবার সিংগাইর থানায় একটি মামলা করে। পরিবারের অভিযোগ, মামলার পর অভিযুক্তরা আগাম জামিনে মুক্ত হয়ে এসে সিংগাইর উপজেলার ফুটনগর মৌজায় অবস্থিত তাদের তিন শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করে রাতারাতি একটি দোকানঘর নির্মাণ করেন। বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশ ও গুম করে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তাদের দাবি।

ভুক্তভোগী ইউনুস আলী বলেন, ‘গত ২১ জুলাই বাড়ির পাশের একটি সালিশে গেলে পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা করা হয়। হাতুড়ি দিয়ে আমার মুখে আঘাত করলে দাঁতের মাড়ি ফেটে যায়। এ কারণে আটটি সেলাই নিতে হয়েছে। মামলার পর তারা আগাম জামিন নিয়ে এসে আমাদের তিন শতাংশ জমির ওপর রাতারাতি একটি দোকানঘর নির্মাণ করে। বাধা দিতে গেলে আমাদের মেরে গুম করে ফেলার হুমকি দেয়।’

আরও পড়ুন জমি নিয়ে বিরোধে ছোট ভাইয়ের কোদালের আঘাতে প্রাণ গেল মুদি দোকানির

ইউনুস আলীর মেয়ের স্বামী মিজান বলেন, ‘শ্বশুরবাড়ির পরিবারের জন্য এই তিন শতাংশ জমিই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জমিটি দখলের উদ্দেশ্যেই তাদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নানা নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আমার শ্বশুরকে জমি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছিল। না দিলে এলাকায় থাকতে দেওয়া হবে না এবং হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।’

অভিযুক্ত মো. ছলিম মিয়া বলেন, ‘জায়গা ভাগাভাগি নিয়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে সমস্যা রয়েছে। এক জায়গায় আমরা সব চাচাতো ভাইয়েরা বসেছিলাম। সেখানে জায়গা ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে কিলাকিলি হয়েছে। তাদের সঙ্গে আমাদের এখনো কোনো জায়গা ভাগাভাগি হয়নি। আমরা আমাদের নিজস্ব জায়গায় ঘর তুলেছি।’

Advertisement

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মারামারির ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আসামিরা জামিনে আছেন। জমি দখলের বিষয়ে কিছু জানি না। যদি এটি জমি-সংক্রান্ত বিষয় হয়, তাহলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। আদালতে গেলে ভালো হয়। আর যদি কোনো ফৌজদারি অপরাধ ঘটে থাকে, তাহলে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মো: সজল আলী/এসজেডএইচ/জেআইএম