‘বাংলাদেশ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অ্যাভিয়েশন মার্কেটগুলোর মধ্যে একটি। তবুও বর্তমানে বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলো আন্তর্জাতিক যাত্রীবাজারের ৩০ শতাংশেরও কম সেবা দিচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে যাতায়াতকারী যাত্রীদের কাছ থেকে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো বছরে প্রায় ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৫৫ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা) রাজস্ব আয় করছে।’
Advertisement
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আয়োজিত ‘বিয়ন্ড দ্য বোয়িং’ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতে সবচেয়ে বড় বহর সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ লিজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন বহরে থাকবে ১৫টি অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৩৭-৮ এবং ৬টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০। ২০২৭ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হবে।
আরও পড়ুন বেবিচক চেয়ারম্যান / অ্যাভিয়েশন খাতে ইউএস-বাংলার দেড় বিলিয়ন বিনিয়োগ মাইলফলক অর্জন করেছেঅনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগিহ, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এবং বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
Advertisement
আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা যে প্রতিটি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করছি, তা আমাদের জাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী হচ্ছে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এ ছাড়া ইউরোপ, ওশেনিয়া ও উত্তর আমেরিকার প্রধান গন্তব্যগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশকে সরাসরি সংযুক্ত করতে আমরা অতিরিক্ত ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর মাধ্যমে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স আন্তর্জাতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করবে।’
জনবলের ওপর বিনিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের জনবলের ওপর বিনিয়োগ করতেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের নিজস্ব অর্থায়নে ২০০ জন মেধাবী তরুণ বাংলাদেশিকে দক্ষ পাইলট এবং ১০০ জন তরুণকে প্রত্যয়িত বিমান প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ স্পন্সরশিপের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি শুধু একটি প্রশিক্ষণ উদ্যোগ নয়, দেশের এভিয়েশন খাতের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিনিয়োগ। দক্ষ অ্যাভিয়েশন পেশাজীবী গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছি। এর ফলে ক্রমবর্ধমান অ্যাভিয়েশন শিল্প থেকে সৃষ্ট মূল্যের আরও বড় অংশ দেশের নিজস্ব অর্থনীতিতেই থাকবে।’
Advertisement
এমএমএ/এমএএইচ/