অর্থনীতি

তৃতীয় প্রান্তিকে ভিসার নিট রাজস্ব বেড়েছে ১৪ শতাংশ

বৈশ্বিক ডিজিটাল পেমেন্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভিসা ইনকরপোরেটেড ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) নিট রাজস্বে ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। একই সঙ্গে মুনাফা, পেমেন্ট ভলিউম, ক্রস-বর্ডার লেনদেন এবং প্রসেসড ট্রানজেকশনেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

Advertisement

২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলে দেখা যায়, ভিসার নিট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। কনস্ট্যান্ট-ডলার হিসাবে এ প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশ।

প্রান্তিকে জিএএপি (GAAP) ভিত্তিক নিট মুনাফা হয়েছে ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বা শেয়ারপ্রতি ২ দশমিক ৯৭ ডলার। বছরভিত্তিক নিট মুনাফা ৭ শতাংশ এবং শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১০ শতাংশ বেড়েছে।

বিশেষ খাত ও সংশ্লিষ্ট করের প্রভাব বাদ দিলে নন-জিএএপি ভিত্তিতে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বা শেয়ারপ্রতি ৩ দশমিক ৩২ ডলার। এক্ষেত্রে নিট মুনাফা ৮ শতাংশ এবং শেয়ারপ্রতি আয় ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন পেপ্যাল, পেওনিয়ারের পথ খুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা

ভিসার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রায়ান ম্যাকইনার্নি বলেন, তৃতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব, মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ভোক্তা ও ব্যবসায়িক ব্যয়ের ধারা এখনো শক্তিশালী রয়েছে। পাশাপাশি কনজ্যুমার পেমেন্ট, কমার্শিয়াল ও মানি মুভমেন্ট সল্যুশন এবং ভ্যালু-অ্যাডেড সার্ভিসেসে ধারাবাহিক সাফল্য প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে।

তিনি বলেন, নতুন পণ্য উদ্ভাবন, উন্নয়ন এবং দ্রুত বাজারজাত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক সুযোগ কাজে লাগাতে ভিসা আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কনস্ট্যান্ট-ডলার হিসাবে পেমেন্ট ভলিউম ১০ শতাংশ বেড়েছে। সার্ভিস রাজস্ব নির্ধারণে ব্যবহৃত আগের প্রান্তিকের পেমেন্ট ভলিউমও ৯ শতাংশ বেড়েছে।

ইউরোপের অভ্যন্তরীণ লেনদেন বাদ দিয়ে ক্রস-বর্ডার ভলিউম ১২ শতাংশ এবং মোট ক্রস-বর্ডার ভলিউম ১৩ শতাংশ বেড়েছে। এসময়ে মোট প্রসেসড ট্রানজেকশন হয়েছে ৭১ দশমিক ৭ বিলিয়ন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।

Advertisement

রাজস্বের খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সার্ভিস রাজস্ব ১৪ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, ডেটা প্রসেসিং রাজস্ব ১৭ শতাংশ বেড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন রাজস্ব ৬ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া অন্যান্য রাজস্ব ৪৫ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

অন্যদিকে, ক্লায়েন্ট ইনসেনটিভ বাবদ ব্যয় হয়েছে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি।

প্রান্তিকে জিএএপি পরিচালন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যা বছরভিত্তিক ১৯ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রধান কারণ কর্মী-সংক্রান্ত ব্যয় বৃদ্ধি। বিশেষ খাত বাদ দিলে নন-জিএএপি পরিচালন ব্যয় ১৭ শতাংশ বেড়েছে, যার পেছনে মার্কেটিং ও জনবল খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ভূমিকা রেখেছে।

২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ভিসার হাতে নগদ, নগদ-সমতুল্য সম্পদ ও বিনিয়োগ সিকিউরিটিজ মিলিয়ে ছিল ১৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।

ইএআর/এমকেআর