জাতীয়

৩০ হাজার টাকা চাওয়ায় তানজিলাকে গলা কেটে হত্যা করেন প্রেমিক রানা

রাজধানীর কেরানীগঞ্জে কিশোরী তানজিলা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় তানজিলার প্রেমিক রানা হাওলাদারকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে।

Advertisement

পিবিআই বলছে, তানজিলার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল রানার। তানজিলা রানার কাছে ৩০ হাজার টাকা চেয়েছিল। রানা টাকা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় তানজিলাকে গলা কেটে হত্যা করেন প্রেমিক রানা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।

তিনি বলেন, কিশোরী তানজিলা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনসহ হত্যাকারী রানা হাওলাদারকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গত বুধবার (২৯ জুলাই) তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু, ভিকটিমের ব্যবহৃত স্মার্টফোন এবং তার ব্যবহৃত অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

Advertisement

মোর্শেদ বলেন, গত সোমবার বিকেলে তানজিলা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাঘৈরে তার খালার বাসা থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মদিনানগর এলাকা থেকে গলাকাটা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মামলা করেন।

তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামি রানা হাওলাদারকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন কাফরুলে খুন / কাউন্সিলর প্রার্থী হতে চাওয়ায় মূল টার্গেট ছিলাম আমি, দাবি যুবদল নেতার

তদন্তের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রেফতার রানা অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। তানজিলার সঙ্গে তার ছয়-সাত মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তানজিলা রানার কাছে ৩০ হাজার টাকা চাইলে তা দিতে না পারায় তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ বলেন, গত ২৭ জুলাই বিকেলে রানা নিজ অটোরিকশায় তানজিলাকে নিয়ে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের মদিনানগর এলাকায় ফাঁকা হাউজিং প্লটে নিয়ে যায়। সেখানে ঝগড়ার একপর্যায়ে রানা ফল কাটার চাকু দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করে। পরে ভিকটিমের দুটি স্মার্টফোন, রূপার চেইন ও ব্রেসলেট নিয়ে পালিয়ে যায়।

Advertisement

এ ঘটনায় অন্য আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত  চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কেআর/বিএ