জাতীয়

বিআরটিসির বাসে ধূমপান ও নেশাজাতীয় দ্রব্য বহন-ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিআরটিসির বাসসহ সব ধরনের গণপরিবহনে ধূমপান এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ‘বিআরটিসি প্রশিক্ষণ মডিউলে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ও ডেভেলপমেন্ট অ্যাকটিভিটিজ অব সোসাইটি (ডাস) যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

আরও পড়ুন কর বৃদ্ধিতেও কমছে না ধূমপান, সস্তা সিগারেট-ভেপে ঝুঁকছে তরুণরা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, গণপরিবহনকে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে বিআরটিসিসহ সব গণপরিবহনে ধূমপান এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ডাসের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিআরটিসির প্রশিক্ষণ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার ফাতেমা বেগম। কর্মশালার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ডাসের টিম লিড আমিনুল ইসলাম বকুল এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট লিড কাজী মোহাম্মদ হাসিবুল হক।

মূল প্রবন্ধে তামাক ব্যবহারের স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইনের বিভিন্ন ধারা, গণপরিবহনে আইন প্রয়োগ, বিদ্যমান শাস্তির বিধান এবং প্রশিক্ষকদের করণীয় তুলে ধরা হয়। এছাড়া বিআরটিসির প্রশিক্ষণ বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার (কারিগরি) মো. জান্নাতুল ফেরদৌস তামাক নিয়ন্ত্রণে বিআরটিসির গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন দেশের সব আদালত প্রাঙ্গণ ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করতে লিগ্যাল নোটিশ

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, গণপরিবহনে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; চালক, সহকারী, প্রশিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ মডিউলে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, সব গণপরিবহনে বাধ্যতামূলক তামাক নিয়ন্ত্রণ সাইনেজ স্থাপন, চালক-সহকারীদের নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ, পরোক্ষ ধূমপান ও অগ্নিঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, তামাক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিবহনে গণপরিবহন ব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণ সনদের অনুচ্ছেদ ৫.৩ বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

Advertisement

আরও পড়ুন ধূমপান ছাড়ার ১ মাসের মধ্যে ফুসফুস ও হার্টে যা ঘটে

কর্মশালায় বিআরটিসির ৩৫ জন প্রশিক্ষক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা গণপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, প্রশিক্ষণ মডিউলে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা এবং বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ কৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন।

আয়োজকদের আশা, এ কর্মশালার মাধ্যমে বিআরটিসির প্রশিক্ষকদের সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং গণপরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন বাস্তবায়নে একটি টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হবে।

ইএইচটি/এমএমকে