কাঁচা মরিচের কেজি এখন ৪০০ টাকা। কিন্তু এই মরিচ ছাড়া কোনো তরকারি রান্না করা সম্ভব নয়। তাই কম পরিশ্রমে বাড়ির চিলেকোঠা, ছাদে, বারান্দায় অথবা আঙিনায় টবে মরিচ চাষ করতে পারেন। এতে খরচও অনেক কম। সামান্য যত্নেই দ্রুত বেড়ে উঠবে মরিচ গাছ।
Advertisement
বাসার এমন একটি স্থান বেছে নিন যেখানে আলো-বাতাস আছে। মরিচ ছায়ায়ও ভালো হয়। তবে মাঝেমধ্যে রোদে দিতে হবে বা জানালার কাছে রাখতে হবে। চাষের ক্ষেত্রে মাটি অথবা প্ল্যাস্টিকের টব ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া পলিব্যাগ, টিনের কৌটা বা প্ল্যাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করতে পারেন। মরিচ গাছের জন্য মাঝারি আকারের টব হলেই চলবে। মাঝারি আকৃতির একটি টবে চারটি মরিচ গাছ চাষ করা সম্ভব।
মরিচের জন্য দোআঁশ মাটি উপযুক্ত। এ ছাড়া সামান্য ক্ষারীয় মাটি ব্যবহার করতে পারেন। দোআঁশ মাটির সাথে জৈব সার ভালো করে মিশিয়ে টব ভর্তি করুন। মাটিতে যথেষ্ট পানি দিন, যাতে মাটি ভেজা থাকে। মাটি যেন একেবারে শুকিয়ে না যায়। এর জন্য আর্দ্র স্থানে রাখুন। বীজ বপন করার আগে বীজকে অবশ্যই ২৪ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। সাধারণত মরিচ চাষের উপযুক্ত সময় হলো মে-জুন। এ ছাড়া শীতকালের শুরুতে অক্টোবর মাসেও বীজ বপন করা যায়। এসময় বীজ বপন করলে মরিচের ভালো ফলন পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন পাটের ভালো বীজ পেতে হলে যা করবেনপাত্রের মাটিতে শুকনা বীজ ছড়িয়ে দিন। কিছুদিন পরে দেখা যাবে বেশকিছু চারা গাছ গজিয়েছে। সেখান থেকে শক্তিশালী চারাগুলো রেখে বাকি চারাগুলো উপড়ে ফেলুন। শুকনো মরিচের ভেতরে যে বীজ থাকে সেগুলোও বের করে নিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। আরও দ্রুত সময়ে চাইলে নার্সারি থেকে মরিচ গাছের চারা কিনে আনুন। কোনো কোনো চারার সঙ্গে মরিচও ঝুলতে দেখা যাবে। ফলে কম সময়েই মরিচ সংগ্রহ করতে পারবেন।
Advertisement
তবে প্ল্যাস্টিকের কনটেইনার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত পানি বের করে দেওয়ার জন্য আগেই কনটেইনারটিতে কয়েকটি ছোট ছিদ্র করে নিতে হবে। গাছের গোড়ায় দিনে একবার অবশ্যই পানি দেবেন। সব সময় সঠিক নিয়মে পরিমাণমতো পানি দিন। পানি দিলে গাছ হেলে গেলে গোড়ায় কাঠি বেঁধে দিন। পানি দেওয়ার সময় পাতা যেন ভিজে না যায়। টব থেকে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখুন।
মরিচের চারা বড় হলে মাটিকে আর্দ্র রাখা জরুরি। যথেষ্ট আলো বাতাস ও পানির প্রয়োজন হয় গাছ বাড়ার জন্য। এদের রৌদ্রোজ্জ্বল স্থানে রাখতে পারেন। খুব বেশি রোদ যেন না লাগে। সকাল অথবা বিকালে মরিচ গাছের যত্ন নিন। কচি চারার ডগা খাওয়ার জন্য পিঁপড়া এবং ছোট পাখি আসে। তাই টবের চারপাশে কীটনাশক চকের দাগ দিতে পারেন অথবা পাউডারজাতীয় কীটনাশক দিতে পারেন। পাখির হাত থেকে বাঁচার জন্য শক্ত নেট ব্যবহার করুন। পানিতে কয়েক ফোঁটা তরল সাবান মিশিয়ে গাছে স্প্রে করুন।
আরও পড়ুন ২২ দেশ ঘুরে পেঁপে চাষে কোটি টাকার ব্যবসা, গড়লেন হাজারো উদ্যোক্তাগাছে ফুল এলে দু-তিন দিন পরই ঝরে যাবে। ধীরে ধীরে মরিচ বড় হবে। কিছুদিন পর থেকে মরিচ সংগ্রহ করতে পারবেন। টান দিয়ে না ছিড়ে কাঁচি দিয়ে কেটে নিন। একটি মরিচ গাছ থেকে মোটামুটি দুই দফায় মরিচ পাওয়া যায়। একটি গাছে এক দফায় কমপক্ষে ৫০ থেকে ৭৫টি করে, দুই দফায় ১০০ থেকে ১৫০টি মরিচ পাওয়া সম্ভব।
এসইউ
Advertisement