কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট চরমে। ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ২০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। ফলে জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে সবখানেই ভরসা হয়ে উঠেছে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো)।
Advertisement
অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসক সংকটের কারণে সেকমোরাই নানা রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন। এতে ভুল চিকিৎসার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার সাধারণ মানুষ।
শুধু চিকিৎসক সংকট নয়, জনবল ঘাটতি, ওষুধ সংকট, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সীমাবদ্ধতা, অ্যাম্বুলেন্স সংকট এবং নতুন ভবনের নানা ত্রুটিতে ধুঁকছে জেলার প্রধান স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের অন্যতম দারিদ্র্যপীড়িত জেলা কুড়িগ্রামের প্রায় ২০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০১৭ সালে ১০০ শয্যার হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরপর ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় আটতলা বিশিষ্ট নতুন ভবন।
Advertisement
কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত
হাসপাতালের নতুন ভবনে নকশাগত নানা ত্রুটি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জরুরি রোগী বহনের জন্য নেই আলাদা লিফ্ট ব্যবস্থা। ঝড়-বৃষ্টির সময় ভবনের কাচ ভেঙে পড়া, টাইলস খসে পড়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। এতে রোগী, স্বজন ও চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিতদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তাহীনতা।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত ১৭৭টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১৯ জন। এছাড়া দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৩৮৮টি পদের মধ্যে শূন্য ২৩১টি পদ। জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মরতরা।
চিকিৎসক সংকটের কারণে জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছে সেকমোদের ওপর নির্ভর করে।
Advertisement
রোগীদের অভিযোগ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য তাদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা জুলেখা বেগম বলেন, ‘হাসপাতালের কয়েকটি বারান্দায় রেলিং নেই। বাথরুমের দরজা ভাঙা। দেওয়াল থেকে টাইলস খসে পড়ে।’
মজিবর রহমান নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘এখানে টাকা খরচ করেও সেবা পাওয়া কঠিন। প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না, পরীক্ষা-নিরীক্ষাও বাইরে করতে হয়। ২৪ ঘণ্টায় একবার ডাক্তার রাউন্ড দেন। ছুটির দিনে অনেক সময় ডাক্তার পাওয়া যায় না।’
বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা বুলবুলি আক্তার বলেন, ‘দুই ঘণ্টার বেশি দাঁড়িয়ে থেকেও সিরিয়াল পাওয়া যায় না। সিরিয়াল পেলেও সেকমোর কাছেই দেখাতে হয়। জরুরি বিভাগ কিংবা বহির্বিভাগ সবখানেই এখন সেকমোই ভরসা।’
হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক এরশাদুল হক বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর পুরোনো দুটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগী বহন করা হচ্ছে। মাঝপথে প্রায়ই বিকল হয়ে যায়। এতে রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। জরুরি ভিত্তিতে নতুন অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ চিকিৎসক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে সেকমোদের দিয়ে অনেক সেবা চালাতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা যোগদান করলেও অনেকেই উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য অন্যত্র চলে যান। ফলে সংকট কাটছে না। চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
রোকনুজ্জামান মানু/কেজে/এএসএম